যুদ্ধ চান না ট্রাম্প

সৌদি আরবের দুই তেল ক্ষেত্রে হামলার পেছনে ইরানের মদদ রয়েছে এমনটা মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হামলার ঘটনার পর ইরানের সঙ্গে প্রয়োজনে লড়াইয়ের কথা বললেও এক দিনের মাথায় নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। ইরানের সঙ্গে তিনি কোনো যুদ্ধ চান না বলে জানিয়েছে বিবিসি।

হামলার জেরে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আরেকটি লড়াই শুরু হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হয়েছেÑ এ পরিস্থিতিতেই সোমবার এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। গত শনিবার ওই হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে কয়েক দশকের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দামে সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন ঘটে।

গত বছর ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে তেহরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যের ইরান সমর্থিত বাহিনীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধের জন্যও তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায় ওয়াশিংটন। সৌদি আরবের তেল প্লান্টে হামলার দায় হুতিরা স্বীকার করলেও এর পেছনে ইরান আছে বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের, এটি তদন্ত করেও দেখছে তারা।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এমন একজন মানুষ যে যুদ্ধ করতে চায় না। আমাদের অনেক বিকল্প আছে, কিন্তু এই মুহূর্তে আমি বিকল্প খুঁজছি না। এটি কে করেছে তা নিশ্চিতভাবে বের করতে চাই আমরা।’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং জ¦ালানিমন্ত্রী রিক পেরিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন মন্ত্রী হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করেছেন। পম্পেও ও অন্যরা শিগগিরিই সৌদি আরব সফর করবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

সৌদিদের রক্ষা করার কোনো প্রতিশ্রুতি তিনি দেননি বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘না, আমি তাদের এ প্রতিশ্রুতি দিইনি। সৌদিদের সঙ্গে আমাদের বসতে হবে এবং করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটি সৌদি আরবের ওপর হামলা, আমাদের ওপর নয়। তবে আমরা নিশ্চিতভাবেই তাদের সাহায্য করব।’

ওই হামলার কারণে সৌদি আরবের দৈনিক তেল উৎপাদন কমে অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে। এতে বিশ্বের অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন পাঁচ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সৌদির তেল উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো জানিয়েছে।