কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ সাটিয়াদী গ্রামের রতন মিয়া ৩০ বছর ধরে শিকলবন্দি ছিলেন।
মঙ্গলবার তাকে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের দাবি পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতেই বড় ভাই আঙ্গুর মিয়া রতনকে মানসিক ভারসাম্যহীন আখ্যা দিয়ে ৩০ বছর আগে শিকল দিয়ে ঘরের একটি অন্ধকার কক্ষে বেঁধে রাখেন। সেই থেকে চলছিল তার বন্দিজীবন।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে এলাকার কয়েকজন জানান, পৈতৃক সম্পত্তি থেকে ছোট ভাইকে বঞ্চিত করার জন্যই তাকে কৌশলে পাগল বলে বন্দি করে রাখেন আঙ্গুর মিয়া। লোহার শিকলে বাঁধা অবস্থায় চলত তার খাওয়া, ঘুম, প্রস্রাব-পায়খানা সবই। এ সময়ের মধ্যে তাকে কখনো নেওয়া হয়নি চিকিৎসকের কাছেও।
তবে আঙ্গুর মিয়ার দাবি, রতন মানসিক ভারসাম্যহীন। এলাকার লোকজন অনেক দিন ধরেই জানেন রতন পাগল। প্রায় ৩০ বছর আগে জমিতে গরুর ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে রতনের মাথায় আঘাত করে গরুর মালিক। এর কিছুদিন পর থেকে রতন অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে।
আঙ্গুর মিয়ার দাবি, রতন লোকজনের ক্ষতি করতে পারে– এমন সন্দেহে তাকে বেঁধে রাখা হয়।
এদিকে সম্প্রতি রতনের এই বন্দিদশা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে সেটি নজরে আসে প্রশাসনের।
মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও সমাজসেবা কর্মকর্তার সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, রতন মারাত্মক পুষ্টিহীনতা ও রক্তশূন্যতায় ভুগছেন। তার শরীরে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
ইউএনও নাহিদ হাসান বলেন, শিকলবন্দি রতন মিয়ার এই করুণ অবস্থার কথা আমরা জানতাম না, সাংবাদিকের মাধ্যমে এই প্রথম জেনে আমরা রতন মিয়াকে উদ্ধার করেছি। এ ঘটনা খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রুহুল আমিন জানিয়েছেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর রতনের চিকিৎসায় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।