বাংলাদেশ : ১৭৫/৭ (২০ ওভার)
জিম্বাবুয়ে : ১৩৬/১০ (২০ ওভার)
ফল : বাংলাদেশ ৩৯ রানে জয়ী।
ব্যাটিংয়ে ৩ উইকেটে ১৪৩। আবার বোলিংয়ে নেমে ৮ রানে ৩ উইকেট,
৬ উইকেট ৪৪ রানে। কিছুদিন ধরে প্রতিপক্ষরা এমনটা ঘটিয়ে আসছে বাংলাদেশের সঙ্গে। তাই ওসব যে গতকালের ম্যাচে বাংলাদেশেরই কীর্তি তা বিশ্বাস করতে কারও হয়তো একটু সময় লেগে থাকতে পারে। বাস্তবতা হলো, ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে জিম্বাবুয়েকে বিদায় করে দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠেছে স্বাগতিকরা। সঙ্গে তুলে নিয়েছে আফগানিস্তানকেও। ২১ তারিখ আফগানদের সঙ্গে ফের দেখা হওয়ার ম্যাচটা তাই ফাইনালের ড্রেস রিহার্সেল এখন।
মাহমুদউল্লাহর চমৎকার ফিফটি, লিটন কুমার দাসের দেওয়া দ্রুতগতির শুরু আর মুশফিকুর রহিমের দাঁতে দাঁত চেপে রান করা বাংলাদেশকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নিজেদের নতুন সর্বোচ্চ রানের দলগত ইনিংস কাল রাতে দিয়েছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ৭ উইকেটে ১৭৫ রানের ওই স্কোরকে জিম্বাবুয়ের সামনে বল হাতে শুরু করেই পাহাড় বানিয়ে দেন স্বাগতিক বোলাররা।
ওখানেও বেশ চমক। ১৯ বছরের আমিনুল ইসলাম বিপ্লব লেগ স্পিনার হিসেবে দলে ঢুকেই দেখলেন সাফল্যের মুখ। ২ উইকেট তার। বোলিং বিশ্লেষণ ৪-০-১৮-২। ২০১৭ সালের পর আবার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার শুরুর সুযোগটা দুহাতে লুফে নিয়েছেন অভিজ্ঞ পেসার শফিউল ইসলাম। ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট তার।
ঘটনা হলো ক্রিকেট থেকে একরকম নির্বাসিত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকায় বাংলাদেশের কষ্টের জয়কে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বলতে হতো অস্বাভাবিক। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ থেকে দলগত খেলা ভুলে যাওয়া দলটির জন্য ওটাও ছিল জয়ে ফেরা। টেস্টে হারা আফগানদের কাছে আবার টি-টোয়েন্টিতে বাজে হারে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসকে খোদ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান করেছিলেন প্রশ্নবিদ্ধ। তবে সবসময় তার বিশ্বাস, বাজে সময়কে কাটাতে টানা কয়েকটা জয় দরকার। চলমান সিরিজের তিন ম্যাচের দুটিতে জয়। আত্মবিশ্বাসের অনেকটা হয়তো পুনরুদ্ধার হলো চট্টগ্রামে এসে কিন্তু আফগানরা এখনো সামনের পথে দাঁড়িয়ে কাঁটা বিছিয়ে।
সমস্যায় আক্রান্ত জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞতা আর তারুণ্য দুই-ই ছিল। কিন্তু এই ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা তাদের বোলারদের বেশ চমৎকার সামলে বড় রান করলেন। এরপর সাইফউদ্দিন ও সাকিব বল হাতে একাদশে ঢোকা দুরু দুরু মনের শফিউল-বিপ্লবকে জোগান সাহস। প্রথম ওভারে সাইফউদ্দিনের উইকেট। দ্বিতীয় ওভারে সাকিবের। চতুর্থ ওভারে শন উইলিয়ামস হন শফিউলের শিকার। একজন লেগির খোঁজে হাপিত্যেশ করতে থাকা বাংলাদেশ বিপ্লবের প্রথম ওভারে পায় সাফল্য। ইনিংসের যেটা সপ্তম ওভার। টিনোটেন্ডা মুতুমবোজি ক্যাচ দেন বিপ্লবের বলে। পরের ওভারে রায়ান বার্লকে মাত্র এক রান হাতেই বোল্ড করেন শফিউল। অন্য প্রান্তে বিপ্লবের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় শিকার আরও বড় ব্যাটসম্যান। হাল ধরে থাকা অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা (২৫) এলবিডব্লিউর শিকার। ৯ ওভারের মধ্যে ৪৪ রানে ৬ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ের আর ফেরার পথ থাকে না। বিপ্লবের শেষ ওভারে আরেকটি রান আউট।
তবু হারের ব্যবধান কমানোর লড়াইয়ে বেশ সফল জিম্বাবুয়ে। সাত নম্বর রিচমন্ড মুতুমুবামি (৫৪) ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পেলেন। কাইল জার্ভিসের (২৭) সঙ্গে অষ্টম উইকেটে তার বীরত্বের ৫৮ রানের জুটি। তবে নিজের ও ম্যাচের শেষ ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান ২ উইকেট নিয়ে টানা দুই ম্যাচে উইকেট না পাওয়ার আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন। সেই সঙ্গে একটা কীর্তিও গড়েছেন। প্রথম উইকেট শিকারের সঙ্গে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ৫০ উইকেট হয়েছে তার। ৩৪ ম্যাচে এবং সাকিবের চেয়ে কম ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়ে।
আসলে বোলাররা শুরুতে সবকিছু গুঁড়িয়ে দিতে থাকায় জয় হয়েছে সহজ। কিন্তু টস হেরে ব্যাটসম্যানরা যে ভিত দিয়েছেন তার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল বোলারদের লড়াই। আর সেই ভিত ৪৯ রানের ওপেনিং জুটিতে। লিটন একপ্রান্ত থেকে আক্রমণ শানিয়ে ২২ বলে ২ ছক্কা ও ৪ বাউন্ডারিতে ৩৮ রান করেছেন। টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ওপেন করা নাজমুল হোসেন শান্তকে (১১) সফল বলা যাচ্ছে না। তবে ৩১ বলে ১ উইকেটে ৫০ তোলা বাংলাদেশ দ্রুতই চাপে পড়েছে। শান্তর পর লিটনের আউটটাও বাজে ছিল। সাকিব (১০) আত্মহত্যা করেছেন। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৭৮ রান মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকুর রহিমের। ইনিংস দাঁড় করিয়ে দিলেও ৩২ রান করা মুশফিকের আউট আবার দৃষ্টিকটু। কমিটেড শটে বিদায়।
ছক্কা দিয়ে ইনিংস শুরু করা মাহমুদউল্লাহ ছক্কা মেরেই স্টাইলের সঙ্গে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি করেছেন। ৪১ বলে ৫ ছক্কা ও ১ চারে তার ৬২ ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেরা স্কোর। ইনিংসের শেষ ওভারে আউট হয়েছেন। আফিফ হোসেন (৭) ও মোসাদ্দেক হোসেনের (২) আউটও বাজে।
দল গড়েছিল বড় স্কোর। জয়টাও হয়েছে দাপুটে। কিন্তু বাজে আউটের ধরন তেমন বদলায়নি। এই ম্যাচের কলঙ্ক বলতে এটা। তবে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হয়তো দাপটের সঙ্গে ম্যাচটা জেতা। যেমন জয় আসলে ভাঙাচোরা আত্মবিশ্বাসের একটা দলকেও নতুন বিশ্বাসে নতুন পথের দিশা দেখাতে পারে। বাস্তবে তা কতটা কী ঘটে তার পরীক্ষা নিতে অপেক্ষায় এখন আফগানদের সঙ্গে এখানকার ফাইনালের ড্রেস রিহার্সেল ম্যাচ।