বিশ্বব্যাপী শিশুদের জন্য ৮ চ্যালেঞ্জ

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোরের এক খোলা চিঠিতে শিশুদের জন্য বিশ্বব্যাপী আট চ্যালেঞ্জকে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

এ আটটি চ্যালেঞ্জ হলো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, দূষণ ও জলবায়ু সংকট, মানসিক অসুস্থতা বৃদ্ধি, গণ অভিবাসন ও জনসংখ্যার স্থানান্তর, রাষ্ট্রহীনতা, ভবিষ্যতের কাজের জন্য দক্ষতা, তথ্য অধিকার ও অনলাইনে গোপনীয়তা এবং অনলাইনে ভুল তথ্য।

বুধবার বিশ্বের সর্বাধিক প্রশংসিত মানবাধিকার চুক্তি শিশু অধিকার সনদের ৩০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে এ চিঠি প্রকাশ করা হয়।

এতে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ, দারিদ্র্য, অসাম্য ও বৈষম্যের মতো বিদ্যমান হুমকিগুলোর বাইরে নতুন হুমকির কথা উল্লেখ করে তা নিরসনে প্রচেষ্টা জোরদার করার উপায়ের রূপরেখা দেয়া হয়।

চিঠিতে হেনরিয়েটা ফোর লেখেন, ‘আপনাদের প্রজন্ম, আজকের শিশুরা নতুন এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের মুখোমুখি হচ্ছে, যা আপনাদের বাবা-মায়েদের কাছে অকল্পনীয় ছিল। জলবায়ু আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি বদলে যাচ্ছে। বৈষম্য আরও বাড়ছে। বিশ্ব নিয়ে আমাদের উপলব্ধি বদলে দিচ্ছে প্রযুক্তি। আর আগের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি সংখ্যক পরিবার অভিবাসী হচ্ছে। শৈশব বদলে গেছে আর তাই এর সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরও দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।’

সংঘাত বিষয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৮৯ সালে শিশু অধিকার সনদ গৃহীত হওয়ার পর থেকে বর্তমান সময়েই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দেশে সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বর্তমানে প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে একজন সহিংস লড়াই বা দুর্যোগে আক্রান্ত দেশগুলোতে বসবাস করছে।

চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় যে শিশুদের বেশিরভাগই বেড়ে উঠবে ভুল তথ্য মিশ্রিত ডিজিটাল পরিবেশের বাসিন্দা হিসেবে। উদাহরণ হিসেবে  ‘ডিপ ফেইক’ প্রযুক্তির কথা বলা হয়। এই প্রযুক্তি সহজেই অডিও ও ভিডিও কনটেন্টের বিশ্বাসযোগ্য নকল তৈরি করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কৌশল ব্যবহার করে।

চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়, একটি অনলাইন পরিবেশ যেখানে প্রকৃত সত্যকে ধারণাগত তথ্য থেকে আলাদা করা যায় না, সেখানে প্রতিষ্ঠান ও তথ্যের উৎসের প্রতি পুরোপুরি বিশ্বাস নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটা গণতান্ত্রিক আলোচনা আর ভোটারদের উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে এবং অন্যান্য নৃগোষ্ঠী, ধর্মীয় বা সামাজিক গোষ্ঠী সম্পর্কে সন্দেহের বীজ বপন করে।

এতে আরও বলা হয়, অনলাইনে ভুল তথ্য ইতোমধ্যে শিশুদের যৌন হয়রানি, অমর্যাদা ও অন্যান্য ধরনের নিগ্রহের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলছে। গণতান্ত্রিক আলোচনাকে বিতর্কিত করে তুলছে।

পরিশেষে, চিঠিতে স্বীকার করা হয়েছে যে শিশু এবং তরুণ জনগোষ্ঠী এবং তাদের সঙ্গীরা যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন। তারা ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে আন্দোলন তৈরি করেছে এবং তাদের নেতৃত্ব অনুসরণ করতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।