জিম্বাবুয়ের বাড়তি খরচের টাকা দিচ্ছে বিসিবি

সফরকারী জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল পড়েছিল একটা বিপদে। আর্থিক সংকট। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের সেই সংকট থেকে উদ্ধার করেছে। টাকার অঙ্ক হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু সেটা আদৌ কবে ফেরত পাওয়া যাবে তা নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকে যায়।

ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলতে আসা জিম্বাবুয়ে দল ফাইনালে উঠতে পারেনি। গতকাল চট্টগ্রামে খেলেছে তাদের শেষ ম্যাচ। ঢাকায় ফিরে ২৫ সেপ্টেম্বর তারা উড়াল দেবে সিঙ্গাপুরে। যেহেতু ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি তাই ২৩ সেপ্টেম্বর তাদের বাংলাদেশ সফর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ। তাহলে বাড়তি যে দুদিন তাদের থাকতে হচ্ছে, হোটেল ভাড়াসহ খরচাদি কে দেবে? জিম্বাবুয়ে বোর্ডের হাতে তো টাকা নেই। আইসিসি তাদের ইভেন্টে জিম্বাবুয়েকে নিষিদ্ধ করেছে। সুতরাং তাদের তহবিলও নেই।

জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়রা এই দুশ্চিন্তা নিয়ে খেলছিল। কিন্তু বিসিবি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন গতকাল ‘দেশ রূপান্তর’কে জানিয়েছেন তারাই আপাতত সব টাকা দেবেন, ‘এটা একটা স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস। যখন কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হয় তখন এমওইউর ভেতর-বাইরে সফরকারী দলের কোনো বাড়তি খরচ হলে সেটা আয়োজক দেশ বহন করে। পরে সফরকারী দল সেটা শোধ করে দেয়।’

জিম্বাবুয়ের কাছে ক্রিকেট জাতি হিসেবে বাংলাদেশের ঋণ আছে। চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে তারা যাতে খেলতে পারে সেজন্য বিসিবি শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে। তবে ঋণের জন্য নয়, সৌজন্যতাও নয়, এটা ‘নিয়ম অনুযায়ী’ কর্তব্য বলে জানিয়েছেন সিইও নিজামউদ্দিন, ‘আমাদের দলও যখন বাইরে কোনো সফরে যায় তখন বাড়তি কোনো খরচ হলে সেটা হোম বোর্ড দিয়ে দেয়। পরে আমাদের কাছে ইনভয়েস পাঠায়। আমরা দিয়ে দেই।’

নিজামউদ্দিন মনে করেন বিষয়টি নিয়ে সংশয়ের কিছু নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, জিম্বাবুয়ে নিশ্চিতভাবে বাড়তি খরচের এই টাকা খুব শিগগিরই শোধ করতে পারবে না। গত জুলাইয়ে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি জিম্বাবুয়েকে সাসপেন্ড করে। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের ওপর সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইসিসির সব ইভেন্টে দেশটির খেলা নিষিদ্ধ করা হয়। তাই তাদের আইসিসির কাছ থেকে ক্রিকেট চালানোর জন্য টাকা পাওয়ার উপায় নেই এখন। আইসিসি বিষয়টির রিভিউ করবে অক্টোবরে।

এ রকম ঘটনা দুঃখজনক হলেও ঘটতে পারে। আর ঘটলেও খেলা বন্ধ হয়ে যেতে পারে না। নিজামউদ্দিন উদাহরণ দিয়ে বললেন, ‘আমরা যে রাজস্ব পাই তা যদি কোনো কারণে আইসিসি এক বছরের জন্য বন্ধ করে দেয় তাহলে আমরা সফর করতে পারব না?’ নিজেই দিলেন জবাব, ‘অবশ্যই পারব।’