প্রবাসীকে অপহরণ ও নির্যাতন করে ভিডিও, গ্রেপ্তার ২

ইয়াসিন আহাম্মেদ সোহাগ (৩০) নামে এক প্রবাসীকে অপহরণ করে ছয় দিন আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ চাওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা থেকে জামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি ও তার বাবা মালেক মাস্টারকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার মূল আসামি সুমন মিয়া এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গতকাল শুক্রবার কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সোহাগ ২০১২ সালে ইতালি যাওয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী লারোচো গ্রামের মালেক মাস্টারের ছেলে ইতালিপ্রবাসী কামাল হোসেনকে ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কামাল তাকে ইতালি নিতে না পারায় তিনি এলাকার লোকজনকে দিয়ে চাপ প্রয়োগ করে ৬ লাখ টাকা উদ্ধার করে সৌদি আরবে চলে যান। পরে কামাল ইতালি থেকে ফ্রান্সে গিয়ে সৌদিপ্রবাসী সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে ফ্রান্সে নেওয়ার প্রলোভন দেখান। ফ্রান্স যাওয়ার জন্য ফের তাকে ১৩ লাখ টাকা প্রদান করেন সোহাগ, কিন্তু এবারও কামাল তাকে ফ্রান্স নিতে গড়িমসি শুরু করলে পুনরায় তিনি চাপ প্রয়োগ করা শুরু করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন কামাল। সেই অনুসারে কৌশলে সোহাগকে ৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব থেকে দেশে আনেন। ১২ সেপ্টেম্বর ভিসা দেওয়ার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে কামালের বন্ধু সুমনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাকে অপহরণ করে একটি বাসায় রেখে নির্যাতন করে তার ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায় একটি ঘরে সোহাগকে হাত-পা বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ সেঁটে শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের ছ্যাঁকা, রড ও ব্লেড দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। এই ভিডিও সোহাগের মাকে দেখিয়ে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। সোহাগের ভাই সুজন এ ঘটনায় ব্রাহ্মণপাড়া থানা এবং পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ ভিডিওর সূত্র ধরে অপহরণকারী চক্রের প্রধান সুমন মিয়ার ভাই মমিন ও তার শ্বশুর আবুল বাশার মুন্সিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম হোসেনপুর গ্রাম থেকে আটক করলে অপহরণকারীরা সোহাগের পকেটে ইয়াবা দিয়ে ৯৯৯ কল দেয়। রাজধানীর শ্যামপুর থানা পুলিশ তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সোহাগের অপহরণের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।