রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর এলাকায় সেতুর ওপর দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ। সেতুর মাঝ অংশের দুটি স্তম্ভ (পিলার) ফেটে গেছে। ধসেও গেছে স্তম্ভের অনেকাংশ। প্রায় ৭৩ বছরের পুরনো সেতুটি পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতের জন্য ১৯৪৬ সালে বদরগঞ্জের কুতুবপুর এলাকার সমাজসেবক ‘চান্দু মন্ডল’ নামে এক ব্যক্তি প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করে কাঠগড়ি নদীর ওপর স্টিলের কাঠামোর ওপর চুন-সুরকি দিয়ে একটি সেতু নির্মাণ করে দেন।
এত দিনে ওই সেতুটির একটি স্তম্ভ প্রায় ভেঙে গেছে। অপরটির অবস্থাও ভয়াবহ। যেকোনো মুহূর্তে সেতুটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। অথচ এ অবস্থায় সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ভারী যানবাহনসহ হাজারো মানুষ।
সমেজমিন দেখা যায়, কুতুবপুর ইউনিয়নের রোস্তমাবাদ এলাকার সেতুটি চরম ঝুঁকির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। সেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে বিভিন্ন বিদ্যালয়গামী কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। সেতুর একটি স্তম্ভের ভেতরে থাকা স্টিলের পাত অনেক আগেই জরাজীর্ণ হয়ে নষ্ট হয়েছে। সেতুর অপর স্তম্ভটিও বেহাল। খসে পড়েছে প্রাচীন নির্মাণ কৌশলের ইট চুন-সুরকি। দুর্বল ভিত্তির ওপর কোনো রকম আটকে আছে সেতুটি। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে মালবাহী ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে।
এলাকার প্রবীণ ইউনুস আলী (৮৫) বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষ চান্দু মন্ডল সেতুটির নির্মাতা। ৭৩ বছর আগে তিনি প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে দেন। কিন্তু বয়স হয়ে যাওয়ায় এটির পুনর্নির্মাণ জরুরি।
এলাকাবাসী বকুল মিয়া বলেন, এর আগেও সেতুটির পাটাতন ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হয়। এখন সেতুর দুটি পিলার ভেঙে পড়ার অবস্থা। পিলারগুলো মাঝ বরাবর ফেটে গেছে। সেতুটি ভেঙে পড়লে রোস্তমাবাদ হাইস্কুলসহ ওই এলাকার তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্যামপুর সুগার মিলসহ পাশের মিঠাপুকুর উপজেলার হাজার হাজার মানুষকে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান দুলু বলেন, ‘এলজিইডি থেকে মাঝেমধ্যে মাপজোখ করে নিয়ে যায়। কিন্তু ব্রিজ হয় না। জরাজীর্ণ হয়ে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সেতুটি মেরামতের ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। লাগানো হয়েছে সতর্কতার জন্য সাইনবোর্ড। কিন্তু কেন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না, তা আমার জানা নেই।’
বদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে সেতুটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। সেখানে আরেকটি সেতু নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হবে।