মা হলেন নুসরাত হত্যার কারাবন্দি আসামি মনি

ফেনী জেলা কারাগারে বন্দি থাকা নুসরাত হত্যা মামলার আসামি কামরুন নাহার মনি সন্তানের মা হয়েছেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রসব বেদনা ওঠার পর ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতে সেখানে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। নুসরাতের সহপাঠী ও ‘বান্ধবী’ ছিলেন মনি। দেশব্যাপী আলোচিত এই হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে গত ছয় মাস ধরে কারাগারে বন্দি আছেন তিনি।

ফেনী জেলা কারাগারের জেলার

 

দিদারুল আলম দেশ রূপান্তরকে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মনির প্রসব বেদনা শুরু হলে দ্রুত তাকে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হলে মনিকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও জানান এই কারা কর্মকর্তা।

মনির সঙ্গে হাসপাতালে থাকা তার মা নুর নাহার দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, নবজাতক সুস্থ থাকলেও মনি কিছুটা অসুস্থ।

তবে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আবু তাহের গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছে। কারা কর্র্তৃপক্ষ চাইলে আজই তাদের নিয়ে যেতে পারবে।’

নুসরাত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের সময় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন মনি। মামলার বিচারকাজ শুরু হলে প্রতি কার্যদিবসে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তার আইনজীবী কয়েকবার জামিন চাইলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে। অন্তঃসত্ত্বা থাকার কারণে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে বিচারকাজে অংশ নেওয়ার আবেদন জানালে আদালত সেটাও নামঞ্জুর করে।

আদালতে মনির আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৪ সেপ্টেম্বর ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আবু তাহেরের নেতৃত্ব গঠিত তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড ২৪ সেপ্টেম্বর সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ দিয়ে তাকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেয়।

নুসরাত হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন মনি। পরে মামলার বিচারকাজ শুরু হলে আদালতে জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেন তিনি। আবেদনে মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআইর বিরুদ্ধে নির্যাতন করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ করেন মনি। মামলার অভিযোগপত্রে মাদ্রাসার ছাদে যে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে নুসরাতের গায়ে আগুন লাগানোর অভিযোগ আনা হয়েছে মনি তাদের একজন।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসাকেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত।