টানা তিন দিন পতনের পর গতকাল ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার। বড় মূলধনী অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচকে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। গতকাল ডিএসইএক্স প্রায় ৬৫ পয়েন্ট বাড়লেও লেনদেন নেমেছে তলানিতে। এক দিনে ডিএসইর লেনদেন কমে গেছে ২০ শতাংশের বেশি।
গতকাল গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা, বিএটি বাংলাদেশসহ বড় মূলধনী অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে লেনদেনের শুরু থেকেই ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ছিল পুঁজিবাজার। লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে কিছুটা বিক্রি চাপ থাকলেও শেষ সময়ে তা কমে যায়। এর ফলে টানা তিন কার্যদিবসের দরপতনে হারানো মূল্যসূচক অনেকটাই পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়। এতে ডিএসইএক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে ৬৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেড়ে ৪৯২০ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
পাওনা নিয়ে বিটিআরসির সঙ্গে বিরোধ মেটানোর উদ্যোগের পর গ্রামীণফোনের শেয়ারের দর বাড়তে শুরু করেছে। গতকালও এ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। দুই দিনে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৫২ টাকা। গতকাল এ কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ডিএসইএক্স সূচকে ১৫ পয়েন্ট যোগ করেছে। এছাড়া স্কয়ার ফার্মা, বিএটি বাংলাদেশ ও রেনেটার শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ডিএসইর সূচকে আরও প্রায় ২০ পয়েন্ট যোগ হয়েছে।
এদিকে সূচকে উল্লম্ফন দেখা দিলেও লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে গেছে। বর্তমানে ডিএসইর মোট লেনদেনের ৯০ শতাংশের বেশি আসে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। ব্যাংকসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও এখনো সক্রিয় নন। যার প্রভাবে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ তলানিতে নেমে গেছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে মাত্র ৩০৪ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ, যা আগের দিনের চেয়ে ২০ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম।
গতকাল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ দর বেড়েছে টেলিযোগাযোগ খাতের। এছাড়া ফার্মাসিউটিক্যালস ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ, খাদ্য ও অনুসঙ্গ ১ দশমিক ৯ শতাংশ, সিরামিক ২ দশমিক ২ শতাংশ ও পাট খাতের আড়াই শতাংশ দরবৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রকৌশল, সিমেন্ট, বস্ত্র, ট্যানারি, বিবিধ, তথ্যপ্রযুক্তি ও জ¦ালানি খাতের দরবৃদ্ধিও সূচক বাড়াতে সহায়তা করেছে। বিপরীতে ব্যাংক, বীমা, কাগজ ও ভ্রমণ খাতের বাজার মূলধন সামান্য কমেছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া সিকিউরিটিজের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮৫টির, কমেছে ১০৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬০টির দর।
ডিএসইতে লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) প্রধান ১০টি কো¤পানি হলোÑ গ্রামীণফোন লিমিটেড, মুন্নু স্টাফলার, জেএমআই সিরিঞ্জ, ন্যাশনাল টিউবস, ফরচুন সুজ, স্কয়ার ফার্মা, মুন্নু সিরামিক, ওয়াটা কেমিক্যাল, ইউনাইটেড পাওয়ার ও স্টাইল ক্র্যাফট। দর বৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলোÑ জেএমআই সিরিঞ্জ, মুন্নু সিরামিক, জেমিনী সি ফুড, বিকন ফার্মা, গ্রামীণফোন, কে অ্যান্ড কিউ, ওয়াটা কেমিক্যাল, খান ব্রাদার্স পিপি, স্টাইল ক্র্যাফট ও সিভিওপিআরএল।
দর কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলোÑ এমারেল্ড অয়েল, ঢাকা ডাইং, এসইএমএল এফবিএসএল গ্রোথ ফান্ড, ডেল্টা স্পিনার্স, ইস্টার্ন ব্যাংক, মিথুন নিটিং, জিপিএইচ ইস্পাত, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইমাম বাটন ও হামিদ ফেব্রিক্স।