এবার ব্রিটিশ পার্লামেন্ট স্থগিতকে বেআইনি বলল সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের পার্লামেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্তকে এবার বেআইনি বলে রায় দিল ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্ট।

২৮ আগস্ট রানির অনুমোদন অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদ কার্যকরের পথ সুগম করতে সংসদ অধিবেশন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন বরিস জনসন। এর ধারাবাহিকতায় এ মাসের শুরুতেই পাঁচ সপ্তাহের জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট স্থগিত হয়ে যায়।

১১ সেপ্টেম্বর স্কটল্যান্ডের সর্বোচ্চ আদালতের পর ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্টও একই সিদ্ধান্ত জানাল।

বিবিসি জানায়, প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের ভাষ্য, “পার্লামেন্টকে তার দায়িত্ব পালন করা থেকে নিবৃত্ত করে রাখার এই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।”

আদালতের সভাপতি লেডি হ্যালে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত আমাদের গণতন্ত্রের মূল বিষয়গুলোর ওপর চরম প্রভাব ফেলেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “রানির পরামর্শে পার্লামেন্টকে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত বেআইনি। কারণ যুক্তিযুক্ত ন্যায়সংগত কারণ ছাড়াই সংসদীয় অধিকারকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা হতাশাজনক প্রভাব ফেলেছে।”

স্কটল্যান্ডেরও বিচারকদের ভাষ্য ছিল, ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করা থেকে বিরত রাখতে পার্লামেন্ট স্থগিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পার্লামেন্টকে কোণঠাসা করা হয়েছে। এতে যা অনুসরণ করা হয়েছে তা বেআইনি। 

লেডি হ্যালে জানান, ১১ জনের বিচারপতি সর্বসম্মতভাবে এই রায় দিয়েছেন। এখন এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে কমন্স ও লর্ডসের স্পিকারদের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

এদিকে কমনস স্পিকার জন বেরকাউ সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আর দেরি না করে আবার পার্লামেন্ট ডাকতে হবে।” এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে তিনি দলের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলে জানান।