নিউ ইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের সফরে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত রবিবার হিউস্টনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল বিতর্কের চাপ কাটাতে এমন উপলক্ষ পাওয়ায় সন্ধ্যাটিকে স্মৃতির মণিকোটায় রাখবেন মোদি। হিউস্টনের আলো ঝলমল সন্ধ্যাটি অন্য কারণেও তার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ অনাড়ম্বর এ অনুষ্ঠান সেদিন মুহূর্তে বিতর্কের দাবানলে পরিণত হয় মাত্র একটি টুইটে, যা বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের মোদ্দা কথা, টয়লেটে আটকে গেলেন মোদি ও বিল গেটস!
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় এক মন্ত্রী গত ২ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করেন, নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকারকে ২০১৯ সালের ‘গোলকিপার’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। উন্মুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগ বন্ধে ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ বা ক্লিন মিশন ইন্ডিয়া প্রকল্পের জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হবে। কিন্তু আপাতত নিরীহ এ পুরস্কারও রীতিমতো বিষবাষ্প ছড়ায়। শিরিন এবাদিসহ তিন নোবেল বিজয়ী পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে অনলাইনে একটি পিটিশন করেন, তাতে ব্রিটিশ-এশিয়ান অভিনেত্রী জামিলা জামিল, রিয়া আহমেদসহ মুহূর্তে এক লাখ স্বাক্ষর হয়। তারা গেটস ফাউন্ডেশনের কড়া সমালোচনা করেন।
২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজর দেন, যা বিশ্ব সম্প্রদায়েরও মনোযোগ কাড়ে। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি দাবি করেন, এখন ৪০ থেকে বেড়ে ৯০ শতাংশ মানুষ টয়লেট ব্যবহার করছেন। আর জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়নের অন্যতম এ লক্ষ্য অর্জনে মোদিকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে গেটস ফাউন্ডেশনের এমন বিবৃতি বিবিসি পেয়েছে।
কিন্তু বিবিসির অনুসন্ধানেই এসেছে, সরকারের করে দেওয়া টয়লেটের বেশিরভাগই অকেজো। এর পেছনে পানির অভাব ও রক্ষণাবেক্ষণ না থাকা দায়ী। ফলে এখনো নারীসহ ৫০ কোটির বেশি মানুষ খোলা আকাশের নিচে প্রাকৃতিক কাজ সারেন। এতে মাটি, পানি ও বায়ুদূষণে রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। বড় সমস্যা সরকার গরিবদের টয়লেট নির্মাণে বছরমেয়াদি অনুদান দেয়। নির্মাণ শুরুর পর কেউই এতদিন অপেক্ষা করতে রাজি নন। এজন্য প্রকল্পের প্রতি কারও আগ্রহ নেই বলে মনে করেন মহিলা গৃহসেবা ট্রাস্ট এনজিওর সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার সিরাজ হিরানি। অবশ্য গেটস ফাউন্ডেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গোলকিপার’ পুরস্কার ঘোষণা না করলেও মোদি টুইট করে তাদের ধন্যবাদ দিয়েছেন।