বশেমুরবিপ্রবিতে আন্দোলন

তদন্তে ইউজিসির পাঁচ সদস্যের কমিটি

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) অস্থিরতার কারণ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গতকাল মঙ্গলবার গঠিত কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে গতকাল টানা ষষ্ঠ দিনের মতো অনশন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এতে দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিন আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে ১৪টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনও করেন। তার পদত্যাদ দাবিতে ঝাড়ু মিছিলও হয়েছে ক্যাম্পাসে।

ইউজিসির পাঁচ সদস্যের ওই কমিটির প্রধান করা হয়েছে কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আলমগীর হোসেনকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেনÑ অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক মো. কামাল হোসেন এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরিচালক মৌলি আজাদ। গত রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানাতে চিঠি দিয়েছিল। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদত্যাগের দাবিতে চলমান অচলাবস্থাসহ যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইনকে তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। উপমন্ত্রীর নির্দেশের তিন দিন পর এ তদন্ত কমিটি গঠিত হলো।

এদিকে উপাচার্য খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগ চাওয়ার কারণ হিসেবে তার বিরুদ্ধে ভর্তিতে দুর্নীতি, নিয়োগে অনিয়ম, যৌন হয়রানিসহ ১৪টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে এ সংবাদ সম্মেলনে ভর্তি বাণিজ্য, শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মচারীদের নিয়োগে অনিয়ম, যৌন হয়রানি এবং ক্যাম্পাসে শহীদ মিনার ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণে উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।

এদিকে গতকাল সকাল থেকে গান-কবিতা-আবৃত্তি করে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। গত শনিবারের হামলার প্রতিবাদে ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দুপুর ১টার দিকে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে বশেমুরবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতিও।

দুপুর ২টার দিকে অনশনকারী মাহমুদ হাসান ও সীমান্ত নামে দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ঝাড়ু মিছিল বের করেন আন্দোলনরত একাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়াও আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রতি রাতে মশাল মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।

হামলার প্রতিবাদে সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগকারী প্রভাষক হুমায়ুন কবির জীবনের সুরক্ষার জন্য সোমবার রাতে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি দাবি করেন, ভিসি সমর্থিত কিছু শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে তাকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি করার হুমকি দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ তাকে ফেইসবুকে হুমকি দিচ্ছেন এবং তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারও ছড়িয়েছেন। হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘এ ধরনের হুমকির কারণে আমি এখন নিজেকে নিরাপত্তাহীন বোধ করছি।’

গত ১১ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ও অস্থিরতা শুরু হয়। জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলেও পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রূপ নিয়েছে। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে কর্র্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বহিরাগতরা। এতে অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার পর আরও উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।