জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন ঘিরে নিউ ইয়র্কে বিশ্বনেতাদের হাট বসেছে। অধিবেশনের ফাঁকে নেতারা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট আলোচনা সেরে নিচ্ছেন। অনবদ্য সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ। কিন্তু এর মধ্যেও উত্তাপ ছড়াচ্ছেন পরস্পরবিরোধী নেতারা। কেউ কারও মুখোমুখি হতে চাইছেন না।
গত বছর একতরফা পরমাণু চুক্তির আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর পর থেকেই ইরানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের চরম অবনতি হয়। সম্প্রতি মার্কিন মিত্র সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি স্থাপনায় হুতিদের ড্রোন হামলার পর উৎপাদনে ধস নামে। এরপর দেশ দুটি ছাড়াও ইউরোপীয় শক্তি ইরানকে দোষারোপ করে আসছে। ইতিমধ্যে তেহরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন সৌদিতে অত্যাধুনিক সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমন আশ্বাসে সৌদি আরব ইরানে হামলার বিষয়টিও একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বন্ধু ও মিত্রদের সঙ্গে ইরানের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে আলোচনা করা হচ্ছে।
ইরানও ছেড়ে কথা বলছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পদক্ষেপে রীতিমতো যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেছে। নিউ ইয়র্কে এসে সম্ভাব্য মিত্রদের সঙ্গেও আলোচনা ঝালিয়ে নিচ্ছেন। আর এটি করতে গিয়ে মিত্রদের কাছে টানতে বিশ্বনেতারা অন্যদেরও ছাড় দিচ্ছেন না। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি চলমান সংকট নিরসনে আলোচনা শুরুর তাগিদ দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বসছেন না প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তিনি সাফ বলেছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার বসার কোনো ইচ্ছে নেই। পশ্চিমারা বেশি চাইবে, অতিরিক্ত শর্ত দেবে; এটাও তাদের জানা উচিত, বেশি পেতে গেলে ছাড়ও বেশি দিতে হয়।
ইরানকে সমর্থন জানিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির ‘শত্রুপক্ষ’কে সাবধান করে দিয়েছেন, ‘সেপ্টেম্বরে তেল স্থাপনায় হামলার বিষয়ে ইরানকে দোষারোপ করার আগে সবার ভাবা উচিত। সব দোষ তাদের, বলার সময় এখন নয়।’ হাসান রুহানি নিউ ইয়র্কে গত বুধবার ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালেহর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তারা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ ছাড়াও নিরাপত্তা ও উন্নয়ন শক্তিশালী করার বিষয়ে আলাপ করেন। তেল স্থাপনায় হামলার ইস্যুতে চীন ইরানকে সমর্থন করায় যুক্তরাষ্ট্র দেশটির কিছু ফার্ম ও ব্যক্তিকে কালো তালিকা করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ফলে চীনকেও ভালোভাবে পাশে পাচ্ছে ইরান। ফরেন পলিসি বলছে, ইরানকে বশে আনার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন যা করতে চেয়েছে তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বড় ভুল ছিল পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়া। এর মাধ্যমে ইরান ইউরোপীয় সরকার, রাশিয়া ও চীনের আরও কাছে যাওয়ার সুযোগ পায়। কূটনীতিক পদক্ষেপ না নিয়ে জোর করে ছায়াযুদ্ধ চাপিয়ে ওয়াশিংটন এখন দিশা পাচ্ছে না। তাই তো জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প তেহরানের ওপর শক্ত অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের আহ্বান জানালেও কোনো নেতা সাড়া দেননি।