ফটিকছড়িতে বন বিভাগের জমিতে অবৈধ বসতি

ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের জমি দখল করে পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রিজার্ভ ফরেস্ট বা বন বিভাগের ভূমি দখল করে কোনো প্রকার স্থাপনা কিংবা বসতি আইনত দ-নীয় হলেও এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তির সংঘবদ্ধ চক্র লিজ নেওয়ার নামে চড়া দামে বিক্রি করছে বাস্তুহারা মানুষের কাছে। আর তাতেই নির্মিত হচ্ছে বসতি। বেদখল হচ্ছে শত শত একর বন বিভাগের ভূসম্পত্তি। দাঁতমারা হেঁয়াকো বন গবেষণা ইনস্টিটিউট কার্যালয় ও হেঁয়াকো বন বিট কার্যালয়ের খুব কাছাকাছি এসব অবৈধ বসতি নির্মিত হলেও কর্র্তৃপক্ষ নির্বিকার।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার দাঁতমারা ইউপির রামগড়-বারৈয়ারহাট সড়কের ফুলছড়ি মসজিদের উত্তর পাশে বন বিভাগের জায়গা দখল করে বসতি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে স্থানীয় মোহাম্মদ ইউসুফ, জামাল ড্রাইভার ও মোহাম্মদ খোরশেদ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রিসার্চ সেন্টারের জায়গাগুলো স্থানীয় বর্তমান ইউপি সদস্য ইউছুপ এবং সাবেক ইউপি সদস্য শফিকুর রহমানসহ ১১ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র লিজ নেওয়ার নামে দখল করে বাস্তুহারা মানুষের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে আসছে। মৌখিকভাবে তারা দখল দিচ্ছে, কিন্তু বৈধ কোনো লিখিত কাগজপত্র কাউকে দেয়নি। সেই সঙ্গে জনপ্রতি কারও কাছে ৪, কারও কাছে ৫ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে ওই সিন্ডিকেট।

সিন্ডিকেটের প্রধান ইউছুপ মেম্বার ও শফিকুর রহমান মেম্বার জানান, তিন বছর আগে তারা রিসার্চ সেন্টার থেকে প্রায় ৫ একর জায়গা ১০ বছরের জন্য লিজ নেন। তারা সেই জায়গায় গাছ রোপণ করেছেন। লিজ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা লিখিত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন ও রিসার্চ সেন্টারকে ম্যানেজ করে সিন্ডিকেটের ব্যক্তিরা সরকারি জায়গাগুলো মানুষের কাছে অলিখিতভাবে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সত্যতা জানতে রিসার্চ সেন্টারে গিয়ে বাগান মালি ছাড়া নির্ভরযোগ্য কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। মালিও জানেন না তাদের কর্মকর্তারা কোথায় আছেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিভিশনাল অফিসার হাসিনা মরিয়ম মুঠোফোনে বলেন, ওই জায়গায় অবৈধ দখলদারিত্বের বিষয়ে আমি শুনেছি। উচ্ছেদকল্পে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে চিঠিও দিয়েছি। আশা করছি শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে। লিজ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা সবাই অবৈধ দখলদার। সরকারি সম্পত্তি লিজ দেওয়ার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই। মূলত এগুলো বন বিভাগের সম্পত্তি। এসব বিষয় নিয়ে বন বিভাগ মামলাও করেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সায়েদুল আরেফিন জানান, বন বিভাগের জায়গা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বন বিভাগের। তাদের যদি কোনো সহযোগিতা লাগে উচ্ছেদ বা অবৈধ দখলদারদের তাড়াতে, সে ক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতা করি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে এটা নিয়ে কথা বলব।