দাম কমল পেঁয়াজের, বাড়ল ডিম-মুরগির

দেশের বাজারে কমেছে পেঁয়াজের দাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শ্যামবাজারে প্রতি কেজি দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের পাইকারি দাম ছিল ৫১-৫৩ টাকা। দেশের প্রধান স্থলবন্দর হিলিতে আমদানি করা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ছিল ৪৭-৫২ টাকা। ফলে খুচরা বাজারে পণ্যটির দাম ১৫-২০ টাকা কমেছে। তবে বাজারে বাড়তির দিকে ডিম ও মুরগির দাম। আর সবজির বাজার এখনো চড়া। গতকাল শ্যামবাজারের পেঁয়াজের পাইকার আবদুর রাজ্জাক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাজারে এখন পেঁয়াজের মজুদ পর্যাপ্ত। তাই সকাল থেকেই দাম কমেছে। প্রতি কেজির পাইকারি মূল্য সর্বোচ্চ ৫৩ টাকা। দাম আরও কমতে পারে। সামনে পূজার ছুটি। আগেই পর্যাপ্ত মজুদ না হলে ফের দাম বাড়বে। আর রসুন নিয়ে আছি বিপদে। ক্রেতা কম।’

ভারত ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজের রপ্তানির ন্যূনতম দাম পুনর্নির্ধারণ করে। এরপর কয়েক দিন দেশের প্রধান স্থলবন্দর হিলি দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অর্ধেক কমে দৈনিক ১২ ট্রাকে নামে। তবে গত শনিবার থেকে ফের বেড়েছে। স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত শনিবার বন্দরে ২২ ট্রাকে ৪৮৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এ ছাড়া রবিবার ২১ ট্রাকে ৪৪৬ টন, সোমবার ২৬ ট্রাকে ৫৫৬ টন, মঙ্গলবার ২১ ট্রাকে ৪৩৭ টন, বুধবার ২৩ ট্রাকে ৫০২ টন, বৃহস্পতিবার ২১ ট্রাকে ৪৪৩ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। চলতি মাসে এই স্থলবন্দর দিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৪২ ট্রাকে ৯ হাজার ৯৪৮ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিলিসহ দেশের সব বন্দর ৮-১০ দিন বন্ধ থাকবে। ভারতের কৃষকরা মজুদ পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে দেশটির বাজারে সরবরাহ বাড়ায় আমদানিও বেড়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, ভারত সরকার রপ্তানির সর্বনিম্ন মূল্য প্রত্যাহারও করে নিতে পারে। এ কারণে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে।

পাইকারিতে দাম কমার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে। দুদিন আগেও প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা কমে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি পেঁয়াজ ৯০ টাকা থেকে কমে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত বুধবার রাজধানীর কাঁঠালবাগান কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮৮ টাকা দরে কেনেন বলে জানান মোস্তাকিম। গতকাল তিনি প্রতি কেজি পেঁয়াজ একই বাজার থেকে কেজি ৬৮ টাকায় কিনেছেন। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি এলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের বাজার এখনো চড়া। তাই বাজার করতে এসে হিমশিম খেতে হয়।’

এদিকে রাজধানীতে বিভিন্ন খুচরা বাজারে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০ টাকা। আর গতকাল হাঁসের ডিম প্রতি ডজন ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এদিন ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৪৫ টাকা। লাল কক মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২১৫ ও লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আমিনুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গরম কমলে ব্রয়লার মুরগি কম বাড়ে। ফলে দাম বেড়ে যায়। শীত এলে দাম আরও বাড়তে পারে।’

এদিকে বাজারভেদে গরুর মাংস ৫৫০-৫৭০ ও খাসির মাংস ৭৫০-৮৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের সরবরাহ বেশি। বড় আকারের ইলিশ প্রতিটি আগের মতোই ১২০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি ইলিশ প্রতিটি ৭০০-৮০০ টাকা। কেজিতে তিনটি হয় এমন ইলিশ প্রতি কেজি ৪০০-৫০০ টাকা।

বাজারে রুই, মৃগেল, কাতল ও সিলভার কার্প মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি। আর কই, পাঙাশ ও তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি।

পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। আর শিম প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। গাজর, বরবটি ও উস্তে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। বেগুন, বরবটি ও চিচিঙা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। আর গত সপ্তাহের মতোই ঢেঁড়স, শসা, ঝিঙে, ধুন্দল, কচুরলতি ও কচুরমুখি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। আর পটোল ও কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।