দুর্গাপূজায় ৮০১ প্রতিমার সবচেয়ে বড় মন্ডপ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর কয়েক দিন পরেই এ উৎসব। তাই বাগেরহাটের মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ। কারিগররা নিপুণ হাতে দেবী দুর্গাসহ নানা দেবদেবীর প্রতিমা তৈরি করে এখন রংতুলির কাজে হাত দিয়েছেন। পাশাপাশি চলছে সাজসজ্জার কাজ।

আগামী ৪ অক্টোবর বোধনের মধ্যে দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু হবে। ৮ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্যে দিয়ে শেষ হবে উৎসব।

গত নয় বছর ধরে এক ব্যবসায়ী বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের সিকদার বাড়িতে ব্যক্তিগতভাবে দেশের সবচেয়ে বড় দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছেন। এ বছর এই মন্ডপে ৮০১ প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। পূজায় এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে বেশ। তবে দর্শনার্থীদের টানতে জেলার অন্যান্য পূজাম-পগুলোতেও বছর বছর প্রতিমার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। সিকদার বাড়ির পরেই বাগেরহাটে কাড়াপাড়া রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমে এ বছর ৩০১ প্রতিমা, ফকিরহাটের বেতাগা গ্রামের মমতলা পূজাম-প এবং চুলকাঠি বণিকপাড়া পূজামন্ডপে ১০১টি করে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে।

কারিগর বিজয়কৃষ্ণ বাছাড় জানান, ১৫ জন কারিগর ছয় মাস আগে সিকদারবাড়ির পূজাম-পে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন। আগামী ৩০ সেপ্টম্বরের মধ্যে প্রতিমায় রঙের কাজ শেষ হবে।

হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, দুর্গাপূজার বড় আয়োজনের কারণে সিকদারবাড়ি এখন সারা দেশে পরিচিত নাম। পূজায় এখানে দেশবিদেশের বহু মানুষের সমাগম ঘটে; সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলন মেলায় পরিণত হয় গ্রামটি। আয়োজক ব্যবসায়ী লিটন সিকদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০১১ সালে ১৫১টি প্রতিমা দিয়ে এই ম-পে দুর্গোৎসব শুরু করি। সনাতন ধর্মে কোটি কোটি দেবতা রয়েছে। অনেকেই এসব দেবতাদের নাম জানে না। এসব দেবতাদের পরিচয় করিয়ে দিতে প্রতি বছর প্রতিমার সংখ্যা বাড়াচ্ছি। আমার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে প্রতিবছর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সুধীজনরাও এখানে পরিদর্শনে আসেন।’

জেলা পূজা উদ্্যাপন পরিষদের সহসভাপতি অম্বরিশ রায় বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন হচ্ছে দুর্গাপূজা। জেলার অন্যতম আকর্ষণ ব্যক্তি উদ্যোগে বড় পূজার আয়োজন হয় সিকদারবাড়িতে।

পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় বলেন, জেলার ৯ উপজেলায় এ বছর মোট ৬২৪টি ম-পে দুর্গাপূজা হবে। দেশের সবচেয়ে বড় পূজাটি হয় সিকদারবাড়িতে। এখানে বিপুল দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। পূজা যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় সেজন্য পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বাড়তি নিরাপত্তা হিসেবে সিসিটিভির মাধ্যমে ম-পগুলো নজরদারির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।