ঝিকরগাছায় আতঙ্কের তিন কিলোমিটার সড়ক

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারন ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী-বাগ গ্রামের তিন কিলোমিটার সড়ক দিয়ে জেলা শহরে যাতায়াত করেন কয়েক হাজার মানুষ। কিন্তু হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে ওই তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়কে চলতে হবে বলে এলাকাবাসী রীতিমতো আতঙ্কে থাকেন।

শত শত ছাত্রছাত্রী ও গ্রামের সাধারণ মানুষকে ওই তিন কিলোমিটার ‘কাদার খাল’ পাড়ি দিয়ে ভয়ানক কসরত করে যাতায়াত করতে হয় স্কুল, কলেজ ও শহরে। বর্ষা মৌসুম এলে সড়কের ওপর হাঁটুসমান পানি কাদায় পরিপূর্ণ থাকে। অনেকে সড়কের কষ্টের ভয়ে বের হতে চান না বাড়ি থেকে।

এলাকাবাসী জানান, ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারনে আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরি এবং শহরে বেশ কটি ইন্ডাস্ট্রি থাকলেও শুধু সড়কটির ভয়ানক অবস্থার কারণে গ্রামের মানুষ কাজের খোঁজে অনাগ্রহী। এই গ্রামের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা যেমন কষ্টকর ব্যাপার, তেমনি উৎপাদিত ফসল সড়কের এ অবস্থায় শহরে বিক্রি করতেও নিয়ে যেতে পারেন না তারা। কাঁচা রাস্তাটির বর্তমান দশার কারণে ট্রলি, নসিমন, ভটভটি, ভ্যান কিছুই চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

গ্রামটির বাসিন্দা স্কুলশিক্ষিকা নাজমা খাতুন বলেন, বর্ষা মৌসুমে স্কুলের ছোট বাচ্চাদের নিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয়। কারণ একহাঁটু কাদা পেরিয়ে স্কুলভ্যান গ্রামে যেতে পারে না। এ সময় বাচ্চারা প্রায়ই স্কুলে যায় না।

নাজমা খাতুন আরও বলেন, বিকল্প রাস্তা হিসেবে বেতনা নদীর ওপর তৈরি করা বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্কুলের বাচ্চাদের পারাপার হতে হয়, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

গ্রামের ফজলুর রহমান ও আবদুল আউয়াল বলেন, এ সময় রোগীদের নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকে বিচ্ছিন্ন। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য বারবার আবেদন করেও কাজ হয়নি।

নাভারন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাজাহান আলী বলেন, রাস্তাটি পাকা করতে ওপর মহলে জানিয়েছি।