রাঙ্গুনিয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের প্র্স্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। মণ্ডপে মণ্ডপে এখন চলছে প্রতিমার উপর রং-তুলির শেষ আঁচড়ের কাজ। তুলির আঁচড়ে দুর্গার স্বরূপ ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, আগামী ৪ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গা পূজা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে ৮ অক্টোবর শেষ হবে শারদীয় দুর্গা পূজার উৎসব।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিভূতি ভূষণ দে ও সাধারণ সম্পাদক দিলীপ দাশ জানান, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা এলাকায় এবারে ১৫৭ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
ইতোমধ্যে তৈরি মাটির মূর্তির উপর রং-তুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত শিল্পীরা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গা উৎসব পালনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের মিশন এলাকার আদি নারায়ণ মণ্ডপে দুর্গা উৎসবের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ইউনিয়নের অপর কয়েকটি মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের রংয়ের কাজ করছেন শিল্পীরা।
দেবী দুর্গার মূর্তি তৈরির কারিগর মঙ্গল পাল জানান, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিমা আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করছি। স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের শান্তিনিকেতন মন্দিরে তৈরি হচ্ছে উপজেলার বৃহৎ দুর্গা প্রতিমা। এ প্রতিমা তৈরির জন্য কারিগর আনা হয়েছে ঢাকা থেকে। শান্তিনিকেতন ছাড়াও উপজেলার অন্যতম বড় পূজামণ্ডপ করা হয়েছে, চন্দ্রঘোনা গীতা ভবন, রাগকৃষ্ণ কালি মন্দির, পদুয়া জমাদরটিলা ও রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে রাঙ্গুনিয়া হিন্দুপাড়া গ্রামে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা নারায়ণ চন্দ্র দাশ জানান, দেবীর আগমন বোধন ষষ্ঠী পূজা দিয়ে শুরু হবে দুর্গা উৎসবের সূচনা।
দ্বিতীয় দিন মহা সপ্তমী, তৃতীয় দিন মহাঅষ্টমী ও চতুর্থ দিন মহা নবমী ও সন্ধি পূজা এবং শেষ দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দশমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
পূজার উৎসব উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উপজেলা ও থানা প্রশাসন।
রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ মোহাম্মদ আহসানুল কাদের ভুঁইয়া জানান, এবার পূজা মণ্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন থাকবে। পুলিশের একটি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ টিম টহলে থাকবে। জেলা পুলিশের একটি টিমও পূজা মণ্ডপগুলো মনিটরিং করবে।
রাঙ্গুনিযা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, শারদীয় দুর্গা উৎসব পালনের সর্বোত্তম নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে সার্বক্ষণিক পূজা মণ্ডপগুলো মনিটরিং করা হবে।