বাংলাদেশের ক্রিকেটে হালে খেলোয়াড়দের মধ্যে আতঙ্ক জন্ম দিয়েছে বিপ টেস্ট। সেই টেস্টের প্রথম পরীক্ষাটা হয়ে গেল গতকাল সব বিভাগেই। আর এই টেস্টের জন্য বেঁধে দেওয়া মানদণ্ড ১১ ছুঁয়েছেন বা পেরিয়েছেন ভাবনার চেয়ে অনেক বেশি খেলোয়াড়। তবে ফেল করার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল, তুষার ইমরান, নাসির হোসেন, আবদুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ শরীফ, ইলিয়াস সানি, আরাফাত সানি, নাদিফ চৌধুরীদের মতো ক্রিকেটার। সবাইকে চমকে দিয়ে ১২ স্কোর করেছেন অলক কাপালি।
যারা ফেল করেছেন তাদের জন্য অবশ্যই সুযোগ থাকছে। জাতীয় ক্রিকেট লিগ শুরু হবে ১০ অক্টোবর। তার আগে, এমনকি লিগ চলাকালেও ব্যর্থ তালিকার খেলোয়াড়দের টেস্ট দেওয়ার সুযোগ মিলবে। গতকাল বিসিবির ট্রেনার তুষার কান্তি হাওলাদার জানালেন, ‘যতদিন পর্যন্ত টেস্টে পাস করতে পারবে না ততদিন পর্যন্ত তারা খেলতে পারবে না। এজন্য যে খেলবে তাকে এই পরীক্ষায় পাস করে যেতে হবে। সেই ক্ষেত্রে একটা সময় আমরা ফাঁকে ফাঁকে টেস্ট করব। কেউ যদি পরে দিতে চায় তাহলে সে সময়ও নেওয়া হবে। আশরাফুল যেমন ৪ অক্টোবর আবার টেস্ট দেবেন।
গতকালের বিপ টেস্টে তুষারের স্কোর ৮.১১। অলকের ১২। আশরাফুলের ৯.৭। ফেল করা তালিকায় আছেন নাসির (৯.৭), রাজ্জাক (৯.৬), শরীফ (১০.৭), আরাফাত সানি (১০.১১), ইলিয়াস সানি (৯.২) । তরুণ পেসার মানিক খানের স্কোর ১২.৮, উইকেটকিপার শাকিলের ১২.৬। শাহরিয়ার নাফীস (১১.২), কামরুল ইসলাম রাব্বি (১১.৭), জুনায়েদ সিদ্দিকী (১১.২), আবু হায়দার রনি (১১.১), মেহেদী মারুফ (১১.৮), শুভাগত হোম (১১), নাজমুল ইসলাম অপু (১১.১), জুবায়ের হোসেন লিখন (১১.২), মার্শাল আইয়ুব (১১.৪), শামসুর রহমান (১১.৩), আল আমিন জুনিয়র (১১.৩), সৈকত আলি (১১.৪) আছেন পাসের তালিকায়। ঢাকার বাইরে পাসের হিসাব ভালো।
চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান কোচ আফতাব আহমেদ জানালেন, ‘ফিটনেস নিয়ে আগে থেকে আমরা কাজ করছিলাম। আমাদের প্রস্তুতি ছিল ভালো। একজন বাদে সবাই ১১-এর বেশি স্কোর করেছে।’ সিলেট বিভাগের অলক বলেছেন, ‘আমাদের মাত্র তিনজন ১১-এর নিচে।’
গত মৌসুমের আগে আশরাফুলের স্কোর ছিল ১১.৪। সেই তিনি এবার প্রথম পরীক্ষায় ফেল। তার বয়স ৩৫। এক বছরের বড় অলকের ১২-এর রহস্য কী?
খুব সন্তুষ্টচিত্তে মোবাইলের ওপারে হাসেন অলক, ‘মারলাম আর কি সবার সঙ্গে সঙ্গে।’ সেই মারার পেছনে আছে গেল দুই মাসের কঠোর পরিশ্রম। অলক জানালেন, ‘গত দুই মাস ধরে নিজের ফিটনেস নিয়ে কাজ করছি। ৫/৬ কেজি ওজন কমিয়েছি। ইচ্ছা আরও বেশিদিন খেলার।’
আর এভাবে নিজেকে নতুন করে গড়ার পেছনে গেল মৌসুমের একটা ভূমিকা আছে। ‘শেষ মৌসুমে ভালো পারফর্ম করতে পারিনি। আসল কথা হলো এনসিএল আছে, বিসিএল আছে, তারপর প্রিমিয়ার লিগ। এই বছরটা ভালো খেলতে চাই।’ তবে তাদের বিভাগ আগেই ট্রেনার দেওয়ায় উপকৃত হয়েছেন। ‘ট্রেনারের কাছে ২০/২৫ দিন আগে থেকে কাজ করেছি। বিশ্বাস ছিল ১১-এর বেশি করতে পারব।’ অলক অবশ্য এর সঙ্গে বলছিলেন, ‘আমাদের পাস মার্ক তো দিয়ে দিয়েছিল। তাতে সবার মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছিল। কী হয় না হয়। এটা আমাদের রুটিরুজি, তাই চেষ্টা তো করতে হবে। জুনিয়র-সিনিয়র সবাই ভালো করেছে।’
দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নমস্ব ব্যাটসম্যান ৩৬ ছুঁই ছুঁই তুষারের জন্য অবশ্য ভালো হয়নি, ‘আমার আরেকবার দিতে হবে। গেল বছর ১০.২ দিয়েছিলাম। এবার প্রথম বৃষ্টির কারণে সেভাবে প্র্যাকটিস করতে পারিনি। আর ছন্দ থাকা দরকার ছিল। ৯-এ উঠাতে পারলে আর ১ মিনিট দৌড়ালে তো ১০ হয়ে যায়।’ নতুন করে সেই চেষ্টা করতে হবে। তবে আপাতত ১১ পাওয়ার আশা তার মাঝেও আছে বলে মনে হয় না। নির্বাচকদের হাতে অবশ্য এমন নিয়মিত পারফরমারকে বিশেষ বিবেচনায় পাস করানোর এখতিয়ার আছে।
আশরাফুলকে এবার ঢাকা মেট্রো দলে রাখছে না। চেষ্টা চালিয়ে শেষে বরিশাল বিভাগে সুযোগ মিলেছে। কিন্তু বিপ টেস্টে ফেল। কী করবেন এবার? ‘৪ তারিখে একটি সুযোগ আছে।’ আশরাফুলের কথায়, ‘এই তিন-চার দিন চেষ্টা করলে আরও উন্নতি করতে পারব ইনশা আল্লাহ।’
যুবা পেসার আবু হায়দার ১১’র মানদণ্ডের প্রসঙ্গে বলছিলেন, ‘এটাতে মনে হয় খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন করে কাজ করার আগ্রহ বেড়েছে।’ এবং এই চ্যালেঞ্জ মনস্তাত্ত্বিক দিক দিয়েও সবাইকে সব ক্ষেত্রে সহায়তা করবে বলেও বিশ্বাস তার, ‘যদি ফিটনেস ভালো থাকে তাহলে ক্যারিয়ার ভালো হবেই। ফিটনেস ভালো থাকলে খারাপ সময়েও ভালো করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর ফিটনেস খারাপ থাকলে যখন চাপ আসবে তখন হয়তো ফিটনেসের কারণে সেই পরিস্থিতিটা উতরাতে পারবেন না।’