মিডল অর্ডার থেকে ওপেনিংয়ে নেমেই সফল যারা

টেস্টে ক্যারিয়ারে আগের সবগুলো ম্যাচই খেলেছেন মিডল অর্ডার বা টপ অর্ডারে। বুধবার বিশাখাপত্তনমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ভূমিকাটা বদলে গেল রোহিত শর্মার। সাদা পোশাকে ওপেনার হিসেবে খেলতে নামলেন প্রথমবারের মতো। আর নেমেই করলেন সেঞ্চুরি। যদিও ওয়ানডেতে রোহিতকে ওপেনার হিসেবেই জানে সবাই।

মিডল অর্ডার থেকে ওপেনিংয়ে নেমেই এর আগে ভারতের বিরেন্দ্রর শেওয়াগও সেঞ্চুরি করেছিলেন। এই তালিকায় আছেন আরো কিছু নাম। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক মিডল অর্ডার থেকে ওপেনিংয়ে নেমেই সফল হয়েছেন যারা-

রোহিত শর্মা:

টেস্টে ওপেন করতে এসেই একবারে বাজিমাত রোহিত শর্মার। এত দিন টেস্টে মিডল অর্ডারে খেললেও বিশাখাপত্তনমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওপেনার হিসেবে এই প্রথম আত্মপ্রকাশ। আর নেমেই সেঞ্চুরি হাঁকালেন।

বিরেন্দ্রর শেওয়াগ:

ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরোটাই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও মিডল অর্ডারে শুরু করেছিলেন। কিন্তু শেওয়াগ তেমন সাফল্য পাচ্ছিলেন না। তখনকার ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি তখন শেওয়াগকে তুলে আনেন ওপেনিংয়ে। তার পর একের পর এক রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে তার ব্যাটে। ওপেনার হিসেবে ১৭০টি ইনিংস খেলে ৮২০৭ রান করেছেন শেওয়াগ। ২০০৪ সালে মুলতানে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরিও করেন তিনি।

সাইমন ক্যাটিচ:

২০০১ সালে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে আত্মপ্রকাশ তার। কিন্তু তেমন একটা সাফল্য না পাওয়ায় দল থেকে বাদ পড়তে হয়। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ফের জাতীয় দলে ডাক পান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফিল জ্যাকস-এর সঙ্গে ওপেন করেন। এক নতুন ক্যাটিচকে তখন আবিষ্কার করে অস্ট্রেলিয়া। খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ১৫৭ রানের ইনিংস।

রবি শাস্ত্রী:

টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ১০ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে। তার ব্যাটিং অর্ডারে বারবারই রদবদল করা হয়। কিন্তু এক এক করে যত উপরে তুলে আনা হয়েছিল, ততই রবি শাস্ত্রীর ব্যাটিংয়ের স্ফুরণ ঘটেছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০৬ রান তার ক্যারিয়ারের সেরা। ওপেনার হিসেবে তার ব্যাটিং গড় ছিল ৪৪.০৪। যেখানে অন্য জায়গায় তার ব্যাটিং গড় ছিল ৩১.৭৩।

উইলফ্রেড রোডস:

লোয়ার অর্ডার লেফট আর্ম স্পিনার হিসেবেই ক্যারিয়ার শুরু করেন এই ব্রিটিশ ক্রিকেটার। ১৮৯৯ থেকে ১৯৩০, ইংল্যান্ডের হয়ে এই সময়ে ৫৮টি টেস্ট খেলেছেন তিনি। বোলার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরে ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে কাজে লাগানো হয়ে তাকে। দীর্ঘ ৩০ বছরের ক্যারিয়ারে বারবার তার ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করা হয়েছিল। কিন্তু ওপেনার হিসেবেই সাফল্যে পেয়েছেন বেশি। ১৯০৪ সালে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওপেনার হিসেবে খেলা শুরু করেন। ওপেনার হিসেবে ৯টি হাফ সেঞ্চুরি এবং ২টি সেঞ্চুরি রয়েছে তার।

সনাৎ জয়াসুরিয়া:

অলরাউন্ডার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও একজন ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে বিধ্বংসী ছিলেন জয়াসুরিয়া। ১৯৯৩ সালে হিরো কাপে প্রথম ওপেন করেন। তখনই নতুন এক জয়াসুরিয়াকে আবিষ্কার করে ক্রিকেট বিশ্ব। পর পর ভালো পারফরম্যান্সের জন্য অধিনায়ক অর্জুন রানাতুঙ্গা তাকে টেস্টেও ওপেনার হিসেবে তুলে আনেন। ১৯৯৭-এ ভারতের বিরুদ্ধে টেস্টে শ্রীলঙ্কার ৯৫২ রানের মধ্যে ৩৪০ রানই ছিল জয়াসুরিয়ার। ওপেনার হিসেবে টেস্টে ১৫২টি ইনিংসে তার ব্যাটিং গড় ৪১.৪৮।

তিলকরত্নে দিলশান:

দশ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময়টাই মিডল অর্ডারে খেলেছেন দিলশান। কিন্তু ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করতে পারছিলেন না তিনি। ক্যারিয়ারের ৫৬তম টেস্টে গলে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওপেন করেই প্রথম ইনিংসে ৭২ বলে ৯২ রান করেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে করেন সেঞ্চুরি। ওপেনার হিসেবে আরও ৬টি সেঞ্চুরি করেন এক বছরের মধ্যে। মোট ২৯টি টেস্টে ওপেন করেছেন দিলশান। ব্যাটিং গড় ৪২.৫৪। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৩ রান তার ক্যারিয়ারের সেরা।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা