কাতারে তাপে মরছে শতাধিক শ্রমিক

কাতারে প্রচণ্ড তাপের মধ্যে কাজ করতে হয় অভিবাসী শ্রমিকদের। প্রতিবছর দেশটিতে এই তাপের কারণে শতাধিক অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

চলতি বছরের গ্রীষ্মে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে কয়েক হাজার অভিবাসী শ্রমিক কাজ করছে। ২০২২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কাতার। ওই আয়োজনকে সামনে রেখে দেশটি ব্যাপক অবকাঠামো তৈরি ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর এই নির্মাণকাজ করছে বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের শ্রমিকরা।

কাতারের কর্র্তৃপক্ষ বলছে, তারা তাপ থেকে শ্রমিকদের বাঁচাতে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এই পদক্ষেপের মধ্যে তীব্র তাপের সময় কাজ বন্ধ, জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ঘরের বাইরে যাওয়া নিষেধ রয়েছে। যদিও গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রম ঘণ্টা বাতিল করেও মৃতের সংখ্যা কমানো যাচ্ছে না। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঘরের বাইরে খোলা আকাশের নিচে কায়িক শ্রম করা অসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়।

সাম্প্রতিক সময়ে দোহা বিশ্ব অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করে। চ্যাম্পিয়নশিপে সংশ্লিষ্টদের বর্ণনা অনুসারে, দোহার পুরো সপ্তাহ জুড়েই প্রচণ্ড তাপ থাকে, যেখানে খেলা তো দূরের কথা, বাইরে বের হওয়াই মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। খেলোয়াড়দের প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে সকাল ৯টা থেকে ১২টার মধ্যে শারীরিক কসরত দেখাতে হয়।

প্রতিবছর মরতে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে অধিকাংশই বয়সে তরুণ। এদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। মৃতদের অধিকাংশই কার্ডিওভাসকুলার জনিত সমস্যায় মারা যায়। যদিও কাতার কর্র্তৃপক্ষ এই মৃত্যুকে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসেবে আখ্যা দেয়।

সম্প্রতি একদল পরিবেশবিদ ও কার্ডিওলজিস্টের করা একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। ওই গবেষণায় বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে কাতারে হিটস্ট্রোকে অন্তত ১ হাজার ৩০০ নেপালি মারা যায়। কাতারে গরমের সময় মৃত্যুর হার ৫৮ শতাংশ বেড়ে যায়, শীতে যেখানে থাকে ২২ শতাংশ।

অধ্যাপক ড্যান আটার বলেন, ‘আমাদের গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে এটা পরিষ্কার, যে দেশগুলো থেকে শ্রমিকদের আনা হচ্ছে কাজ করানোর জন্য, সেই দেশের জলবায়ুর সঙ্গে মিল না থাকায় মারা যাচ্ছে শ্রমিকরা।’