হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে ২৬ শিক্ষক পদ শূন্য

নোয়াখালীর  হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত। এ কলেজে শিক্ষকদের ৪৯টির মধ্যে ২৬ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে এ সব তথ্য জানা গেছে।

১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠার পর নদী ভাঙনের কবলে পড়ায় ১৯৯৭ সালে কলেজটি উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে ছয় একর জমির ওপর স্থানান্তরিত হয়। কলেজ ক্যাম্পাসের প্রকৃতিক দৃশ্য খুবই মনোরম। ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে জাতীয়করণের পর থেকেই এ কলেজে শিক্ষক সংকট লেগেই রয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা যোগদান করেই বদলির জন্য তদবির শুরু করেন। দ্রæতই তারা ধাপে ধাপে বদলি হয়ে চলে যান। এ কলেজে বাংলা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে।

উপাধ্যক্ষ তোফায়েল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, একটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু থাকলে ঐ বিষয়ে ১২ জন শিক্ষক দরকার। এ কলেজে ঐ বিষয় দুটির প্রত্যেকটির অনুমোদিত পদ সংখ্যা ৪। বাংলায় কর্মরত আছেন দুজন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কোনো শিক্ষক নেই। বিষয় দুটির এইচএসসি ও স্নাতকের ক্লাস চলে অতিথি শিক্ষক দিয়ে।

এছাড়াও এ কলেজে ইংরেজিতে ২, হিসাববিজ্ঞানে ৩, ব্যবস্থাপনায় ৩, অর্থনীতিতে ২, ইসলামের ইতিহাসে ২ ও ইতিহাসে ৩টি পদ শূন্য। বিষয়গুলোর প্রত্যেকটির অনুমোদিত শিক্ষক পদ সংখ্যাও চার। দর্শনে ১, পদার্থ বিদ্যায় ১, উদ্ভিদ বিদ্যায় ১ ও পরিসংখ্যানে ১টি পদ শূন্য। বিষয়গুলোর প্রতিটির অনুমোদিত শিক্ষক পদ সংখ্যা দুই। আইসিটি বিষয়ে একটি পদের একটিই শূন্য। সব মিলিয়ে শিক্ষকদের ২৬টি পদ শূন্য রয়েছে। পদার্থ, রসায়ন, উদ্ভিদ ও প্রাণিবিজ্ঞান প্রত্যেকটি বিষয়ের ১টি করে প্রদর্শকদের ৪টি এবং গ্রন্থাগারিকের ১টির মধ্যে ১ পদ প্রায় বিশ বছর ধরে শূন্য। প্রধান সহকারী, হিসাবরক্ষক, ক্যাশিয়ার ও হিসাব সহকারীর প্রতি পদে ১ জন করে ৪ ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের ২টিসহ তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের ৬ পদের সবকটিই শূন্য।

ক্যাশিয়ার, সুইপার ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান কাম ক্যাটালগার পদের প্রতিটির ১টি করে ৩ এবং অফিস সহায়কের ৯ পদের ৫টিসহ চতুর্থ শ্রেণির ১৭টির মধ্যে ৮ পদ শূন্য। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১৪টি পদ শূন্য রয়েছে ১০ থেকে ১২ বছর ধরে।

১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত আসবাবপত্রহীন অধ্যক্ষের বাসভবনটি থাকার অনুপযোগী হওয়ায় নির্মাণের পর থেকে কোনো অধ্যক্ষই ওখানে থাকেননি। পূর্বসূরিদের মতো বর্তমান অধ্যক্ষও ঐ ভবনে না থাকলেও তার বেতন থেকে প্রতি মাসে ২৪ হাজার টাকা বাড়িভাড়া কাটা হয়। ডরমেটরি না থাকায় শিক্ষকরা মেসে বা ভাড়া বাসায় থাকেন। ছাত্রাবাস না থাকায় দূরের শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিয়মিত ক্লাস করা ব্যয়বহুল ও কষ্টকর। বর্ষায় কলেজ মাঠের দক্ষিণাংশে হাঁটুপানি থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারে না। কলেজ গ্রন্থাগার ও বিভিন্ন কক্ষে আসবাবপত্র সংকট প্রকট।

স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী নারগিস বেগম বলেন, বেলা ১২টার পর থেকে  কলেজে বিদ্যুৎ থাকে না, তখন অসহনীয় গরমে সবাই অস্থির হয়ে পড়ে। বিএসএস প্রথম বর্ষের ফাহমিদা আকতার বলেন, এ কলেজে কর্মচারী সংকটের কারণে সময়ের কাজ সময়ে হয় না, শিক্ষার্থীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক শিক্ষার্থী বলেন, অনেক শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় নিয়মিত ক্লাস হয় না।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর দেবব্রত দাসগুপ্ত দেশ রূপান্তরকে বলেন, বহু পদ বছরের পর বছর শূন্য থাকায় লেখাপড়া ব্যাহত ও প্রশাসনিক কাজে সমস্যা হচ্ছে।