কেউ অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হলেই তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ হয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ একটি চলমান প্রক্রিয়া। যে যখন শনাক্ত হয়, অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়; তখনই তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’ গতকাল শুক্রবার রাজধানীর খামারবাড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বর্তমান সরকারের আমলে পূজা উদযাপনের অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখন প্রথম ক্ষমতায় (২০০৮) আসি, তখন সারা দেশে পূজামণ্ডপ ছিল ২০ থেকে ২২ হাজার। কিন্তু এরপর থেকে বছরে অন্তত এক হাজার করে পূজামণ্ডপ বাড়ছে। সারা দেশে এখন ৩৩ হাজার মণ্ডপে পূজা উদযাপন হচ্ছে। ঢাকাতেও পূজামণ্ডপ বেড়েছে।’
দুবাই থেকে গ্রেপ্তার জিসানের বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘সে আমাদের লিস্টেড আসামি। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে আমরা ১৫ বছর আগেই ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়েছিলাম। দুবাই সরকার আমাদের সহযোগিতা করছে। তারা জিসানকে গ্রেপ্তার করে আমাদের জানিয়েছে। এখন চিন্তাভাবনা করছি কোন প্রক্রিয়ায় তাকে ফিরিয়ে আনব। আশা করি তাকে দ্রæত ফিরিয়ে আনতে পারব।’
ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জিসানের কোনো লিংক রয়েছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যাসিনো ব্যবসা, না টেন্ডার ব্যবসা তা আমাদের জানার বিষয় নয়। আমাদের কাছে মুখ্য হলো সে অপরাধ করেছে কি না। সে অপরাধের সঙ্গে জড়িত কি না। এই জিসানকে বহু আগে আমরা গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়েছি। সন্ত্রাসীদের তালিকায় তার নাম রয়েছে। আমরা তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছি। এই প্রক্রিয়া শেষ করব।’
অপরাধ করে দেশ থেকে অনেক অপরাধী পালিয়ে যায় এবং পালিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা করে জানিয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামিরাও পালিয়ে গিয়েছিল। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অনেক আসামি পালিয়েছে। আমরা তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। যেখানে যে প্রক্রিয়া দরকার, আমরা তা হাতে নিচ্ছি। সরকারিভাবে এবং অন্যান্য চ্যানেলে চেষ্টা করছি। নানাভাবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করি সবাইকে ফেরত নিয়ে আসব। দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান, ধানমণ্ডি, উত্তরা, গুলশান, বনানীসহ সারা দেশে ক্যাসিনো ও জুয়ার হাউজগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে র্যাব ও পুলিশ। এসব ঘটনায় অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের অনেকেই যুবলীগ নেতা। এই পরিস্থিতিতে গত ৩ অক্টোবর যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া গত ২২ সেপ্টেম্বর ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও তার স্ত্রী ফারজানা চৌধুরী, যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ব্যাংক হিসাব তলবের পর জব্দ করে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।