নোবেল নিয়ে কত কথা

আগামীকাল থেকেই শুরু হচ্ছে এবারের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা। পর্যায়ক্রমে মোট ৬টি বিভাগে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে প্রবর্তিত এই পুরস্কারটি ১৯০১ সাল থেকে প্রদান করা হয়। নোবেল পুরস্কারের ১১৮ বছরের ইতিহাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি

গুন্টার গ্রাসের ইসরায়েলবিরোধী কবিতা

১৯৯৯ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান জার্মান ঔপন্যাসিক গুন্টার গ্রাস। তবে, তার এই পুরস্কারপ্রাপ্তি নিয়ে পরবর্তী সময়ে অনেক বিতর্কও হয়েছে। জানা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে কুখ্যাত ওয়াফেন-এসএস গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন গুন্টার গ্রাস। কিন্তু পরবর্তী ৬০ বছর ধরে তিনি সে বিষয়ে পুরোপুরি নীরব ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তার এই অতীত নিয়ে যখন মানুষ আলোচনা করেছে তখন অনেকেই তাকে ক্ষমা করে দিয়েছে এই বলে যে, ‘যুদ্ধের সময় তিনি পরিণত বয়সের ছিলেন না।’

তার একটি কবিতাও আন্তর্জাতিক পরিম-লে নেতিবাচকতার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিল। কবিতাটিতে ইহুদি বিদ্বেষের কথা বলা না হলেও, সেটি ছিল কট্টর ইসরায়েলবিরোধী। ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘যা বলা উচিত’ শিরোনামের ওই কবিতাটির সমালোচনায় ইসরায়েলের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এলি ইশাই ঘোষণা করেন, ‘গ্রাসের কবিতাটি ইসরায়েল রাষ্ট্র ও তার জনগণের প্রতি বিদ্বেষের অগ্নি উসকে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।’ শুধু ইসরায়েল নয়, গ্রাসের ৬৬ লাইনের ওই কবিতাটির বিরুদ্ধে তার স্বদেশ জার্মানিতেও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

ইসরায়েলকে পৃথিবীর একটি বিপজ্জনক শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন গ্রাস। ইসরায়েলের সঙ্গে জার্মান সরকারের সাবমেরিন সরবরাহ এবং পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি তুমুল সমালোচনা করেছিলেন। কবিতাটির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি লাইন

সে দেশের নামটা মুখে আনতে কেন রাজি নই আমি?

সারা দুনিয়া খেলছে এই লুকোচুরি খেলা

আমিও মেরেছি চুপ এই লুকোচুরির তলায়

আমার তো মনে হয় এই নিশ্চুপ থাকার চেয়ে

বড় মিথ্যাচার বড় কেলেঙ্কারি আর কিছু নেই

এই মিথ্যার বিরুদ্ধে টু শব্দটি কর দেখি তুমি

দেখবে অভিশাপ ভয়াবহ খড়গ আসছে নেমে তোমার মাথায়

তুমি ‘এয়াহুদি বিদ্বেষী’।

কুরি পরিবারের ৬ নোবেল

ম্যারি কুরি তেজস্ক্রিয়তা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পোলোনিয়াম এবং রেডিয়াম আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত। ১৯০৩ সালের ডিসেম্বরে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স হেনরি বেকেরেল কর্র্তৃক উদ্ভাবিত বিকিরণের ওপর সমন্বিত গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে পিয়েরে কুরি, ম্যারি কুরি ও হেনরি বেকেরেলকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেয়। ম্যারি কুরি ছিলেন নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম মহিলা।

১৯০৬ সালের ১৯ এপ্রিল এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ম্যারি কুরি’র নোবেল বিজয়ী স্বামী পিয়েরে কুরি। ভারী বৃষ্টির মধ্যে সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তিনি একটি ঘোড়ার গাড়ির নিচে চাপা পড়েন এবং তার মাথার হাড় ভেঙে যায়। স্বামীর মৃত্যুতে ম্যারি প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পান। কিন্তু স্বামীর মৃত্যু তাকে তার গবেষণায় আরও বেশি মনোযোগী করে তোলে। ১৯১১ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার দেয়োর মাধ্যমে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স তাকে দ্বিতীয়বারের মতো সম্মানিত করে। রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম আবিষ্কার, রেডিয়াম পৃথকীকরণ এবং এরকম অসাধারণ উপাদানের প্রকৃতি ও এদের যৌগের ওপর গবেষণার মাধ্যমে রসায়ন শাস্ত্রের উন্নয়ন ঘটানোর স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। এই পুরস্কারের মাধ্যমে কুরি পরিবারের ঝুলিতে মোট তিনটি নোবেল জমা হয়।

কুরি পরিবারের চতুর্থ এবং পঞ্চম নোবেল পুরস্কারটি আসে ম্যারি ও পিয়েরে কুরির কন্যা ইরিন কুরি ও তার স্বামী জলিওট কুরির হাত দিয়ে। ১৯৩৫ সালে তারা রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান।

এই কুরি পরিবারেরই ছোট মেয়ে ইভ কুরির স্বামী ছিলেন হেনরি ল্যাবুইসে জুনিয়র। ১৯৬৫ সালে ইউনিসেফের হয়ে শান্তিতে নোবেল পান তিনি! শুধু একটি পরিবার থেকেই এতগুলো নোবেল পুরস্কারের নজির আর নেই। এমন নজির ভবিষ্যতেও হবে কি-না আছে সন্দেহ।

মাদার তেরেসার ভোজসভা বর্জন

মাদার তেরেসা হয়তো নিখুঁত ছিলেন না। অন্য সাধারণ মানুষের মতো তারও হয়তো কিছু দোষত্রুটি ছিল। গর্ভপাত বিষয়ে তার সঙ্গে অনেকেরই মতভেদ ছিল। তবে, এমন কেউ ছিল না যে, তাকে স্বার্থপর বলতে পারে।

জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত গরিব এবং আর্ত-পীড়িত মানুষের সেবায় খরচ করেছেন তেরেসা। আর এটি করতে গিয়ে তিনি তার জীবনের যাবতীয় ভোগবিলাস, আরাম-আয়েশ ত্যাগ করেছেন। আলবেনিয়ায় জন্ম হলেও ১৯২৮ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ভারতে পা রেখেছিলেন। কিন্তু এখানে এসেই বদলে যায় তার জীবনের দর্শন। গরিব মানুষকে সাহায্য করাই হয়ে যায় তার জীবনের ব্রত। ১৯৯৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ভারতেই ছিলেন। তবে, মাদার তেরেসার কাজ শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

বিশ্বজুড়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯ সালে তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এই পুরস্কার গ্রহণের জন্য তেরেসা নরওয়ের অসলো শহরে ভ্রমণ করেছিলেন এবং পুরস্কার বিজয়ীদের সৌজন্যে একটি রাজকীয় ভোজসভায় অংশগ্রহণেরও সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তেরেসা দেখলেন, ওই ভোজসভাটি অনেক ব্যয়বহুল। এ ধরনের খরুচে ব্যাপার ছাড়াও নোবেল পুরস্কারের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা যায়। এ অবস্থায় তিনি ভোজসভা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন এবং আয়োজকদের বলেন, একটি ভোজসভায় যে খরচ করা হচ্ছে, তা দিয়ে অসংখ্য গরিব মানুষকে খাওয়ানো সম্ভব।

গোপনীয়তার ৫০ বছর

নোবেল পুরস্কারকে ঘিরে প্রায় সময়ই নানা গুঞ্জন শোনা যায়। এমনকি অনেক সংবাদ মাধ্যমও কারও নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আগাম খবর প্রকাশ করে ফেলে কিংবা পুরস্কারটির বিভিন্ন বিভাগে কারা কারা মনোনয়ন পেয়েছে তারও তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে, এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন সম্পূর্ণ অনুমান নির্ভর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধারেকাছেই থাকে না এসব পূর্বানুমান।

নোবেল পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে কাদের প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয় সে বিষয়ে পূর্ণ গোপনীয়তা অবলম্বন করে নোবেল কমিটি। এই গোপনীয়তা ৫০ বছরের জন্য নিচ্ছিদ্র। অর্থাৎ এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারে কাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে জানা যাবে আরও ৫০ বছর পর।

এক্ষেত্রে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তার কারণ, তাদের সম্পর্কে নোবেল কমিটির বক্তব্য, নোবেল পুরস্কার যাকে দেওয়া হচ্ছে তার সিদ্ধান্তটি কীভাবে এলো এই সব তথ্যই ৫০ বছরের আগে কোনোক্রমেই জানা সম্ভব নয়। মজার ব্যাপার হলো পুরস্কারকে সামনে রেখে এবারও গুঞ্জন উঠেছে যে, নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন জলবায়ু ইস্যুতে সাড়া জাগানো কিশোরী গ্রেটা থানবার্গ। বিশ্বের অনেক বড় বড় গণমাধ্যমও এর পক্ষে সাফাই গেয়েছে। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ অনুমান নির্ভর। সত্যিকারের নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর সঙ্গে এই অনুমান মিলে যেতে পারে। তবে কোনোভাবেই এটি কোনো সূত্র থেকে পাওয়া নয়।

নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান 

পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং সম্মানজনক পুরস্কার বলা হয় নোবেল পুরস্কারকে। কিন্তু এই সম্মানকেও অনেকে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন অবলীলায়!

১৯৭৩ সালের কথাই ধরা যাক। সেবার যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হেনরি কিসিঞ্জার এবং ভিয়েতনামের রাজনৈতিক নেতা লে দ্যুক থো’কে। কেন তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল তা জানতে হলে একটু পেছনে যেতে হবে। পূর্বে ভিয়েতনাম দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম। একসময় তাদের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। ১৯৫৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত চলে এই যুদ্ধ। আমেরিকার অবস্থান ছিল দক্ষিণ ভিয়েতনামের পক্ষে। কিন্তু আমেরিকার মদদপুষ্ট হয়েও দক্ষিণ ভিয়েতনাম হেরে যায় উত্তর ভিয়েতনামের কাছে। উত্তর ভিয়েতনামের সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শে এক হয়ে যায় দুই ভিয়েতনাম। যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আমেরিকার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জার ও ভিয়েতনামের রাজনৈতিক নেতা লে দ্যুক থো একটি শান্তি চুক্তি করেন। এই চুক্তির জন্য নোবেল প্রদান করা হয় কিসিঞ্জার এবং লে দ্যুক থো-কে। কিন্তু লে দ্যুক থো পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। সারা বছর যুদ্ধ বাধিয়ে রেখে শেষ বেলায় চুক্তি করে পেয়ে যাবে নোবেল পুরস্কার, তাও আবার শান্তিতে, এ কেমন নৈতিকতা?

কিসিঞ্জারের নোবেল পাওয়ার প্রতিবাদে লে দ্যুক থো’র নোবেল প্রত্যাখ্যান ছাড়াও নোবেল কমিটি থেকেও দুজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছিলেন।

১৯৫৮ সালে রুশ লেখক বরিস পাস্তেরনাক নোবেল প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে ওই প্রত্যাখ্যানের নেপথ্যে ছিল ভিন্ন ঘটনা। নোবেল পাওয়ার সংবাদ শুনে বরিস পাস্তেরনাক আনন্দিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেও পুরস্কার ঘোষণার চার দিন পর নোবেল কমিটি পাস্তেরনাকের কাছ থেকে একটি বার্তা পায়। তাতে লেখা ছিল, ‘আমার সমাজে এই পুরস্কারের তাৎপর্য বিবেচনা করে আমি তা গ্রহণ করতে পারছি না। অনুগ্রহ করে আমার এই স্বেচ্ছা প্রত্যাখ্যানে আহত হবেন না।’

পরবর্তী সময়ে বরিস পাস্তেরনাক নোবেল প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। তবে ধারণা করা হয় যে, সোভিয়েত ইউনিয়নের সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণে তিনি নোবেল প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

এদিকে, নোবেল প্রত্যাখ্যানের সর্বশেষ নজির স্থাপন করেন ফরাসি চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক ও দার্শনিক জ্যঁ পল সার্ত্রে। ১৯৬৪ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। কিন্তু এই পুরস্কার গ্রহণে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। তার মতে, একজন লেখকের জন্য কখনোই নিজেকে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে দেওয়া উচিত নয়। সে হিসেবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার গ্রহণকে জ্যঁ পল সার্ত্রে নিজের বিকাশের পথে অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করেন। জানা যায়, জ্যঁ পল সার্ত্রে কোনোক্রমে আগেই জেনে গিয়েছিলেন যে, তিনি নোবেল পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন। এমন খবর জানতে পেরে সার্ত্রে নোবেল কমিটির কাছে একটি চিঠি লেখেন, যেন তার নাম মনোনয়নের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। তিনি চিঠিতে নোবেল কমিটিকে সতর্ক করে দেন এই বলে, যদি তাকে পুরস্কার দেওয়াও হয় তা তিনি গ্রহণ করবেন না। কিন্তু পরে জানা যায়, তার চিঠিটা কেউ পড়েনি এবং যথারীতি পুরস্কারের জন্য তার নাম ঘোষণা করা হয় এবং যথারীতি প্রত্যাখ্যাত হয়।

হিটলারের গন্ড-গোল

১৯৩৬ সালে জার্মান শান্তিবাদী কার্ল ভন ওজিয়েৎযকি জিতে নেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার। আর গন্ড-গোলটা বাধে এখানেই। কারণ হিটলারের সরকার গোপনে যুদ্ধ আয়োজন করছিল। ১৯৩১ সালে এই সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার জন্যই নোবেল শান্তি পুরস্কার জোটে ওজিয়েৎযকির কপালে। জার্মানির এই যুদ্ধ আয়োজন ছিল ভার্সাই চুক্তিবিরোধী, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরপরই জার্মানি ও অন্যান্য মিত্রশক্তির মাঝে স্বাক্ষরিত হয়। গোপন তথ্য ফাঁস করার জন্য দেশদ্রোহিতা ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুলে ওজিয়েৎযকিকে কুখ্যাত কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বন্দি করেন হিটলার। তার ওপর চলতে থাকে অমানুষিক নির্যাতন। ১৯৩৬ সালে পুরস্কারের জন্য যখন ওজিয়েৎযকির নাম ঘোষণা করা হয় তখনো তিনি বন্দি ছিলেন। অবশেষে যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৩৮ সালে মৃত্যু হয় তার।

ওজিয়েৎযকির পুরস্কার জেতার খবর জার্মানি জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান হিটলার নিজেই। কারণ তার বিরুদ্ধাচরণকারীকে এভাবে সম্মানিত করার ব্যাপারটি মোটেও ভালো নজরে দেখেননি তিনি। তাই তিনি ঘোষণা দেন, জার্মানি থেকে কেউ নোবেল পুরস্কার জেতা তো দূরের কথা, মনোনীতই হতে পারবে না! এমনকি এই পুরস্কার সংক্রান্ত কোনো খবর প্রচারেও দেশটির গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছিল জার্মান বিজ্ঞানীদের। কারণ সে সময় তাদের অনেকেই এই পুরস্কারের দাবিদার ছিল। শুধু তাই নয়, হিটলারের নিষেধাজ্ঞার তিন বছরের মধ্যেই এই পুরস্কারের জন্য অন্তত তিন জন জার্মান বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করা হয়। তবে, নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা কিছুতেই পুরস্কারটি গ্রহণ করতে পারছিলেন না।

মজার ব্যপার হলো- যে বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় (১৯৩৯), সে বছর নাকি নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য হিটলারের নামও প্রস্তাব করেছিলেন সুইডিশ পার্লামেন্টের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক মেম্বার এরিক গটফ্রিড ক্রিস্টিয়ান ব্র্যান্ডট।