সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল

ক্ষতিকর প্রকল্প করে সুবিধা নিচ্ছে ভারত

বর্তমানে ক্ষতিকর সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে একটি বাজার বানিয়ে ভারত সব সুবিধা নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংগঠনের এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। সুলতানা কামাল বলেন, ‘এখন আমাদের অবস্থা এমন হয়েছে, যে সমস্ত দূষণমূলক বিষয় প্রকৃতিকে ধ্বংস করতে পারে, মানুষের জীবনের জন্য একটা কঠিন অবস্থা তৈরি করতে পারে, সে সমস্ত শিল্প বাংলাদেশে হবে; সেগুলো যৌথ পরিকল্পনায় হবে। আর প্রোডাক্টটা হবে ভারতীয় এবং সমস্ত সুবিধা তারা নিয়ে যাবে।’

সুন্দরবন নিয়ে গত জুনে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৩তম সভার সব সুপারিশ বাস্তবায়ন, রামপালসহ সব ভারী শিল্প নির্মাণ বন্ধ ও সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা করার দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুলতানা কামাল।

বাংলাদেশকে বাজার বানিয়ে ভারত সুবিধা নিচ্ছে উল্লেখ করে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমি ভারতবিরোধী কোনো কথা বলতে চাই না। ভারত মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সহযোগিতা না করলে আমরা এভাবে মুক্তিযুদ্ধ শেষ করতে পারতাম না। সে জন্য আমাদের অবশ্যই কৃতজ্ঞতা রয়েছে। আমি নিজে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সেটা সব সময় স্মরণ করি। কিন্তু সেটার পরিবর্তে আজ বাংলাদেশকে একটা বাজারের জায়গা বানিয়ে বা তাদের একটা শিল্প কারখানার জায়গা বানিয়ে নিজেরা সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নেবে, এটার বিরুদ্ধেও কিন্তু আমাদের চিন্তাভাবনা করতে হবে।’

সুলতানা কামাল বলেন, ‘সারা বিশ্ব যখন জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মহাসংকট নিয়ে ব্যতিব্যস্ত, তখন বাংলাদেশে কতিপয় খোঁড়া যুক্তির ভিত্তিতে তথাকথিত বিদ্যুৎ ঘাটতি নিরসনের জন্য কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে চলছে। অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে কয়লা হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জ্বালানি এবং “ভালো কয়লা” একটি নিকৃষ্ট মিথ্যা কথা।’

বাংলাদেশ বিশ্বনিন্দিত কয়লার ভাগাড়ে পরিণত হতে চলেছে উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে সুলতানা কামাল আরও বলেন, ‘উন্নয়ন বা বিদ্যুতের জন্য কয়লা এমনকি কোনো জীবাশ্ম জ্বালানিরই প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্র পরিচালকদের মন পরিষ্কার থাকলেই আমাদের অফুরন্ত পরিষ্কার বিকল্প জ্বালানি চোখে পড়বে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আজকে যে দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসছে, সেটা থেকেই তো আমরা দেখতে পাচ্ছি, যারা ক্ষমতার কাছাকাছি আছেন, যারা ক্ষমতার যেকোনো সূত্র ধরে এ কাজগুলো করতে পারছেন, তারা কিন্তু তাদের জীবনটা অন্য জায়গায় তৈরি করে নিচ্ছেন। এই বাংলাদেশের ভেতরে থাকছেন না। অতএব বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে গেলে তাদের কিছু আসবে যাবে না। সে জন্যই হয়তো তারা এ কাজগুলো করছেন।’

লিখিত বক্তব্যে সুলতানা কামাল বলেন, ‘গত জুনে ইউনেসকোর ৪৩তম সভায় বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের দুরবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আর বাংলাদেশকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কৃতকাজের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পরবর্তী সভায় কমিটি সন্তুষ্ট না হলে সামনের বছরই আবার “সুন্দরবন বিপদাপন্ন ঐতিহ্য” তালিকায় চলে যেতে পারে।’

কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিনের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল।