চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনকে আবারও মেয়র হিসেবে দেখতে চাইÑ নগর মহিলা দল সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনির এ বক্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনির ওই বক্তব্যের ভিডিও এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে ফেইসবুকে। এরপর এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। বিএনপি ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলছেন, মনির দেওয়া বক্তব্য ‘অনাকাক্সিক্ষত ও দুঃখজনক’। তবে ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন মনি।
এদিকে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের চট্টগ্রাম নগর কমিটির সভাপতি পদ থেকে মনোয়ারা বেগম মনিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিনিয়র সহসভাপতি ফাতেমা বাদশাহকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে কাণ্ডজ্ঞানহীন কথাবার্তা অশোভনীয়। যেখানে আমাদের চেয়ারপারসন প্রহসনের মামলায় কারাবন্দি, হাজার হাজার নেতাকর্মী জেলে। ১ কোটির কাছাকাছি নেতাকর্মী মামলার আসামি। আওয়ামী লীগের মতো অগণতান্ত্রিক দলের নেতার প্রশংসা আমাদের সকল ত্যাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সবকিছু বিবেচনায় তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
কী বলেছিলেন মনি : শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে গত শুক্রবার নগরীর লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ আয়োজিত শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন লালখান বাজার, বাগমনিরাম ও জামালখান ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মনি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মেয়র নাছির। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে নাছিরকে ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মেয়র’ আখ্যায়িত করেন নগর মহিলা দলের সভাপতি মনি। তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি আ জ ম নাছিরকে আবারও নির্বাচিত করতে না পারেন সেটা হবে আপনাদের জন্য ব্যর্থতা, চরম ব্যর্থতা। আগামীতে নাছির ভাই দলীয় নমিনেশন না পেলে আমিও নির্বাচন করব না। নাছির ভাই ছাড়া অন্য কোনো মেয়রের অধীনে কাউন্সিলর হওয়ার ইচ্ছে নাই।’
আগামী বছরের ২৫ জুলাই শেষ হচ্ছে মেয়র নাছিরের মেয়াদ। তার আগে মার্চের মাঝামাঝিতে সেখানে ভোট হতে পারে। ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে তৎপরতা শুরু করেছেন বেশ কয়েকজন নেতা। এছাড়া এরই মধ্যে প্রার্থী হতে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।
বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাদের প্রতিক্রিয়া : মনির ওই বক্তব্যের ভিডিও ফেইসবুকে ভাইরালের পর বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পদক জেলী চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তার (মনি) মতো একজন সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রীর এ ধরনের বক্তব্য আমাকে হতবাক করেছে। এটি আমাদের সবার জন্য বিব্রতকর।’
এ প্রসঙ্গে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বক্কর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে কেউ এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারে না। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাক্সিক্ষত।
মনির ক্ষমা প্রার্থনা : ওই অনুষ্ঠানে এমন বক্তব্য দেওয়া ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন মহিলা দল নেত্রী মনি। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি আবেগে কথাগুলো বলেছি। এটা আমার ভুল হয়েছে। আমি বিএনপি করি, আগামীতেও করব। আমি সবার কাছে আমার ভুলের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি।’