মহাসপ্তমী উদযাপিত

আজ মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা

চন্ডিপাঠ বোধন ও দেবীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। ষষ্ঠীপূজা থেকে শুরু হওয়া ভক্তদের ভিড় সপ্তমীতে বেড়ে যায় কয়েকগুণ। গতকাল সপ্তমীর রাতে ঢাকের তাল আর কাঁসরের শব্দে মহাষ্টমীর আগমনী বার্তা শুরু হয়। আজ মহাষ্টমীতে রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনসহ সারা দেশে হাতেগোনা কয়েকটি মন্দিরে হবে অষ্টমীর মূল আকর্ষণ কুমারী পূজা।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালীমন্দির ও বনানী মন্দিরে গিয়ে দেখা যায় নানা বয়সী মানুষের ভিড়। সকাল থেকেই শুরু হয় সপ্তমী পূজার আনুষ্ঠানিকতা। শুরুতেই বিশেষ রীতি মেনে স্নান করানো হয় মা দুর্গাকে। মা দুর্গার প্রতিবিম্ব আয়নায় ফেলে বিশেষ ধর্মীয় রীতিতে স্নান সেরে, বস্ত্র ও নানা উপাচারে মায়ের পূজা হয়। এরপর দেবীর তৃতীয় চক্ষুদান করা  হয়। নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন শেষে দেবীর সপ্তমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেবীর পায়ে ফুলের অঞ্জলি দিয়ে চরণামৃত পান করে দিন শুরু করেন ভক্তরা।

জানতে চাইলে গুলশানের বাসিন্দা সুদীপ সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটু আগে মায়ের অঞ্জলি শেষ হলো, এখন মন্দির ঘোরার পালা। অন্য দিনগুলোর তুলনায় সপ্তমীর দিন পূজামণ্ডপগুলোতে তুলনামূলকভাবে ভিড় কম থাকে। প্রতি বছরই সপ্তমীর দিন নারায়ণগঞ্জ ঘুরতে যাই। আশা করছি এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।’

গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সুধাংশু কুমার দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এই পূজা ফাউন্ডেশনের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন। পাশাপাশি থাকছে ভক্তদের জন্য আরাধনার ব্যবস্থা।’

অষ্টমীর সকালে দুর্গা দেবীর মহাষ্টমী বিহিত পূজা প্রশস্তা, ব্রতোপবাস ও পুষ্পাঞ্জলি হবে। একই সঙ্গে কুমারী বালিকার মধ্যে শুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করবেন ভক্তরা। রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশনসহ দেশের কয়েকটি পূজাম-পে এ পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা ব্রাহ্মণ বা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কুমারীকে দেবীজ্ঞানে পূজা করার বিধান রয়েছে। কুমারী পূজার বিষয়ে শ্রী রামকৃষ্ণের কথামৃতে বলা হয়েছে, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর রূপ বেশি প্রকাশ পায় এবং মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার উদ্দেশ্য।

হিন্দু শাস্ত্রমতে, এক বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে চ-ালিকা, পাঁচে সুভাগা, ছয়ে উমা, সাতে মালনী, আটে কুজ্বিকা, নয়ে কালসন্দর্ভা, দশে অপরাজিতা, এগারোয় রুদ্রানী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চৌদ্দতে পীঠ নায়িকা, পনেরতে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোল বছরে তাকে অন্নদা নামে অভিহিত করা হয়।

কুমারীকে মহাষ্টমীর দিন প্রভাতে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। তার কপালে সিঁদুর ও পায়ে আলতা দিয়ে হাতে দেওয়া হয় ফুল। কুমারীকে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হয়। এ সময় চারদিকে শঙ্খ, ঢাকের আওয়াজ, উলুধ্বনি আর দেবী স্তুতিতে মুখরিত হবে চারপাশ।