শায়েস্তাগঞ্জে ট্রেনের ধাক্কায় স্কুলছাত্র নিহত

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বড়চর নামক স্থানে ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ২ স্কুলছাত্র।

রবিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশনের পশ্চিমে আউটার সিগনালের অদূরে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত স্কুলছাত্র শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নছরতপুর গ্রামের সিএনজি অটোরিকশা চালক সেলিম মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়া (৭)।

আহতরা একই গ্রামের কামাল মিয়ার ছেলে সামি (৭) ও আলমগীর মিয়ার ছেলে সায়েম (৭)। তাদের প্রথমে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। হতাহত শিক্ষার্থীরা শায়েস্তাগঞ্জ ইসলামী একাডেমি অ্যান্ড হাইস্কুলের ২য় শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নছরতপুর থেকে তিন স্কুলছাত্র অটোরিকশায় স্থানীয়  ইসলামী একাডেমিতে যাচ্ছিল। পথে মহাসড়কের পশ্চিম বড়চর নামক স্থানে হাইওয়ে পুলিশের টহল দেখে অটোরিকশা  চালক গাড়ি আটকের ভয়ে ঘুরিয়ে রেলক্রসিং পার হয়ে যাবার চেষ্টা করেন।

এ সময় সিলেটগামী একটি লোকাল ট্রেন রেলক্রসিংয়ে সিএনজিটিকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলে সোহাগ নিহত হয়। বাকিদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে হবিগঞ্জ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

খবর পেয়ে গ্রামবাসী ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং বিক্ষোভ করে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, সিএনজিটি স্কুল ছাত্রদের নিয়ে মহাসড়ক দিয়ে যেতে পারলে আজকে এই দুর্ঘটনা হত না। খবর পেয়ে বেলা ১২টায় শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ তালুকদার ইকবাল, উপজেজলা নির্বাহী অফিসার সুমী আক্তার, ভাইস চেয়ারম্যান গাজীউর রহমান ইমরানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেন। পরে যান চলাচল শুরু হয়। 

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম খান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।