যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক তরুণীর (৩১) সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে ভিডিও কলে যোগাযোগের সময় আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার বিকেলে র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া কর্মকর্তা) মো. মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ফখরুল ইসলাম (২৫) নামের ওই যুবককে বিয়ানীবাজার থানায় হস্তান্তর করার পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
শনিবার রাতে র্যাব-৯ এর একটি দল বিয়ানীবাজারের আরিচখা টিলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ফখরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে ওই গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। প্রতারিত তরুণীর বাড়িও একই উপজেলায়।
বিয়ানীবাজার থানার ওসি অবনি শংকর কর মামলার এজাহার উদ্ধৃত করে জানান, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ওই তরুণী যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। প্রায় চার বছর আগে তিনি গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজারে এসেছিলেন। ওই সময় ফখরুলের সঙ্গে তরুণীর পরিচয় হয়। কিছুদিন পর তরুণী যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলেও তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল এবং দিনে দিনে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে ফখরুল ওই তরুণীকে জানান, কথা বলার জন্য তার কোন ভালো মোবাইল ফোন নেই। তখন তরুণী প্রায় লাখ টাকা দামের একটি মোবাইল ফোন দেন ফখরুলকে। আর এই মোবাইল ফোনেই দু’জনের মধ্যে ভিডিও কলে কথা হতো।
সম্পর্কের কারণে ওই তরুণী প্রায়ই খোলামেলা পোশাকে ভিডিও কলে হাজির হতেন এবং তাদের মধ্যে অন্তরঙ্গ কথাবার্তা হতো। এই চিত্র ও কথাবার্তা ফখরুল নিজের মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে রাখেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে ফখরুল এসব আপত্তিকর ভিডিও ওই তরুণীকে দেখিয়ে টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানো ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপর তরুণী ফখরুলকে মাসে মাসে টাকা পাঠাতে থাকেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক তরুণের সঙ্গে ওই তরুণীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। এরপর ফখরুল আরও বেশি টাকা দাবি করেন। এতে তরুণী সাড়া না দেওয়ায় আপত্তিকর ভিডিও তরুণীর স্বামী, দেবর, ননদ, ভাই ও ভাবির কাছে পাঠিয়ে দেন ফখরুল।
এ অবস্থায় তরুণীর বড় ভাই গত ২৪ সেপ্টেম্বর এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানায় একটি জিডি করেন এবং র্যাবের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে র্যাব-৯ এর এএসপি আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে ফখরুলকে গ্রেপ্তার করেন।
এ সময় ফখরুলের কাছ থেকে উদ্ধার করা মোবাইল ফোনে ওই তরুণী ছাড়াও আরও একাধিক নারীর আপত্তিকর ভিডিও পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফখরুল স্বীকার করেছেন প্রতারণার জন্যই তিনি এসব ভিডিও ধারণ করেছেন। প্রতারিত তরুণীর ভাই বাদী হয়ে ফখরুলের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন।