নির্মাণ, সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণসহ নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার বাসস্থান নিশ্চিতের দায়িত্ব গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ওপর। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়টির অধীনে থাকা কয়েকটি
সংস্থা কাজ করছে। পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়ণে বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আজ পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব বসতি দিবস-২০১৯’। এ উপলক্ষে সরকারের নানা কার্যক্রম ও পরিকল্পনা নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তরের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক তোফাজ্জল হোসেন রুবেল।
দেশ রূপান্তর : বিশ্ব বসতি দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় কী?
শ ম রেজাউল করিম : ১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর অক্টোবরের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস পালন করা হচ্ছে। এবারের ‘বিশ্ব বসতি দিবস-২০১৯’-এর প্রতিপাদ্য বিষয় ‘বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার’।
দেশ রূপান্তর : পরিকল্পিত আবাসন গড়তে সরকার কোন কোন উদ্যোগ নিয়েছে?
শ ম রেজাউল করিম : শুধু ইট-সুরকির দালান দিয়ে নগর গড়ে তোলা সরকারের লক্ষ্য নয়, বরং সব নাগরিকের জন্য পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। এ আলোকে ‘পরিকল্পিত নগর, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন’-এ ভিশনকে সামনে রেখে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তুলতে সরকার তথা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেযোগ্য হলোÑ সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে সরকারি অব্যবহৃত জমিতে সুউচ্চ ভবন নির্মাণ, পুরাতন/পরিত্যক্ত ভবন অপসারণ করে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ, জমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে বিভিন্ন আবাসিক প্রকল্প গ্রহণ, পরিবেশবান্ধব টেকসই আবাসন নিশ্চিতে আবাসিক ভবনগুলোয় স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, সোলার প্যানেল, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রভৃতি বিষয় সংযুক্ত করা, ভ‚মি ব্যবহার পরিকল্পনায় (মাস্টার প্ল্যান) বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় আবাসনের জন্য ভ‚মির প্রস্তাবনা, অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বিচ্ছিন্ন আবাসনের পরিবর্তে গুচ্ছ গুচ্ছ আবাসন নীতিমালা প্রণয়ন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বøকভিত্তিক নির্ধারিত উচ্চতায় পরিকল্পিত ভবন নির্মাণ প্রকল্প।
দেশ রূপান্তর : সরকারের চলমান প্রকল্প কোনগুলো?
শ ম রেজাউল করিম : এই সময়ে সরকারের চলমান প্রকল্পগুলো হলোÑ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বাস্তবায়নাধীন পূর্বাচল নতুন শহর, উত্তরা তৃতীয় পর্বে উত্তরার ১৮নং সেক্টরে ২১৪ একর জমিতে ১৫ হাজার ৩৬ ফ্ল্যাট নির্মাণ, ঝিলমিল রেসিডেন্সিয়াল পার্কে ৮৫টি বহুতল ভবনে ১৩ হাজার ৭২০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ, গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন, কুড়িল-পূর্বাচল লিঙ্ক রোডের উভয় পার্শ্বে (কুড়িল হতে বালু নদ পর্যন্ত) ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন ও উন্নয়ন, হাতিরঝিল প্রকল্পের দূষিত পানি পরিশোধন, উত্তরা লেক উন্নয়ন, ঢাকার গুলশান, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া ও ধানমÐি এলাকার ৯টি পরিত্যক্ত বাড়িতে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্প।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ঢাকার বেইলি রোডে মন্ত্রীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ (মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট-৩), মাদারীপুরে সরকারি অফিসগুলোর জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ, ঢাকার মালিবাগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৪৫৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ, ঢাকার আজিমপুরে বিচারকদের জন্য বহুতলবিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণ, ঢাকা শহরে গুলশান, ধানমÐি ও মোহাম্মদপুরে ২০টি পরিত্যক্ত বাড়িতে ৩৯৮টি সরকারি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ, গোপালগঞ্জে বহুতলবিশিষ্ট সমন্বিত অফিস ভবন নির্মাণ এবং জিগাতলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২৮৮টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প।
এ ছাড়া মোহাম্মদপুর ‘এফ’ বøকে ৯০০টি আবাসিক ফ্ল্যাট, মিরপুর ১৫নং সেকশনে সরকারি/আধাসরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ‘জয়নগর’ ৫২০টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ, লালমাটিয়া নিউ কলোনিতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ১৩২টি (সংশোধিত ১৫৩টি) আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ, মিরপুর ৯নং সেকশনে ১০৪০টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প।
দেশ রূপান্তর : অভিযোগ আছে সরকারি ফ্ল্যাটের দাম অনেক বেশি ধরা হয়। আপনি তা কমিয়ে সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে রাখতে কোনো উদ্যোগ নেবেন কি?
শ ম রেজাউল করিম : গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়াধীন রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্র্তৃপক্ষ (জাগৃক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষসহ (চউক) অন্যান্য সংস্থা স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের সাধ্যের মধ্যে ক্রয়যোগ্য আবাসিক ফ্ল্যাট দিতে নানা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতেও আবাসিক ফ্ল্যাট প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দেশ রূপান্তর : ‘গ্রাম হবে শহর’ এ লক্ষ্যে আপনার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগগুলো কী কী?
শ ম রেজাউল করিম : সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদে নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য ক্রমাগত দূর করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সে আলোকে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে অন্যতম প্রতিশ্রæতি ছিল, ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’। এর মাধ্যমে শহরের সব নাগরিক সুবিধা তথা আবাসন, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসসহ অন্যান্য নগরের সুবিধা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের জেলা শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলায় জাগৃকের উদ্যোগে প্লট ও ফ্ল্যাট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গ্রাম পর্যায়েও পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিতে মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করা হবে।
দেশ রূপান্তর : বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ভ‚মিকা কীভাবে দেখেন?
শ ম রেজাউল করিম : শুধু সরকারের উদ্যোগে সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে নাগরিকের বাসস্থান নিশ্চিতে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ভ‚মিকা গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আবাসন ব্যবস্থা যেন সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে খেয়াল রাখতে হবে। সরকার ‘রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ প্রণয়ন করেছে। আবাসন ব্যবসায়ীদের সরকারের আবাসন নীতিমালা মেনে তাদের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মেনে বৈধ নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করতে হবে। এ ছাড়া সুপরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ভবন নির্মাণে তাদের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য যে, সরকারের পাশাপাশি স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের চাহিদা বিবেচনায় রেখে ৮০০/১০০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগী হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে।
দেশ রূপান্তর : ঢাকা শহরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন মাত্র ৮ থেকে ১০ ভাগ আছে। প্রধানমন্ত্রী তা বাড়িয়ে কমপক্ষে ৪০ ভাগে উন্নীত করার তাগিদ দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আপনার গৃহীত পদক্ষেপ কী?
শ ম রেজাউল করিম : সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২ হাজার ৭৮৮টি ফ্ল্যাট নির্মিত হয়েছে বিধায় ঢাকা শহরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা ৮ থেকে ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা শহরে আবাসিক ভবন নির্মাণের আরও ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন চলমান আছে। চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মাণাধীন রয়েছে ৬ হাজার ৫৯৪টি ফ্ল্যাট। এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে ঢাকা শহরে আবাসন সুবিধা ১০.৬৪% হতে ১৫.১০%-এ উন্নীত হবে। গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্র্তৃক বাস্তবায়িতব্য আরও ৮টি প্রকল্প পাইপলাইনে আছে। এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকা শহরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা ১৫.১০% থেকে ২১.১৮%-এ উন্নীত হবে। আবাসন সুবিধা ৪০%-এ উন্নীত করতে আরও ২৮ হাজার ১৩টি ফ্ল্যাট প্রয়োজন হবে। পুরনো ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে এ লক্ষ্য পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশ রূপান্তর : সরকারি কাজের গুণগত মান রক্ষার্থে মন্ত্রী হিসেবে আপনার কোনো পদক্ষেপ আছে কি?
শ ম রেজাউল করিম : মন্ত্রণালয়ের বড় বড় প্রকল্প, যেমনÑ উত্তরা তৃতীয় পর্ব আবাসিক এলাকা ও ফ্ল্যাট প্রকল্প, পূর্বাচল আবাসিক এলাকা, চট্টগ্রামের আউটার রিং রোড ও আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারসহ অন্যান্য প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করে এর কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। সরেজমিন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ত্রæটিপূর্ণ কাজ বন্ধ করার ব্যতিক্রমধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। প্রকল্প এলাকায় পরিচালকদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করাসহ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রধানদের নিয়মিত কাজ পরিদর্শনের জন্য তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে সহজে প্রকল্পের কাজ মনিটরিং করার জন্য আমরা যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছি।
দেশ রূপান্তর : ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড চ‚ড়ান্ত হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে আপনার পরিকল্পনা কী?
শ ম রেজাউল করিম : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যুরো অব রিসার্চ টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশনের (বিআরটিসি) সহযোগিতায় হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট তৈরি করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ২০১৭-এর চ‚ড়ান্ত সংস্করণ। কারিগরি দিক থেকে বিএনবিসির বর্তমান সংস্করণ যুগোপযোগী ও সর্বাধুনিক তথ্যসমৃদ্ধ নীতিমালা। কাঠামো কৌশল, স্থাপত্য কৌশল, ভিত্তি কৌশল, অগ্নি প্রতিরোধ, প্লাম্বিং, তড়িৎ কৌশল, যন্ত্র কৌশল ইত্যাদি কারিগরি বিষয়ে এই কোডে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। এতে বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।
তিনটি ভলিউমের বিএনবিসি ২০১৭-এর চ‚ড়ান্ত সংস্করণ ২০১৯ সালে গেজেট আকারে প্রকাশ হবে। এ গেজেট প্রকাশের পর এটি অনতিবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে পাঠানো হবে, বিশেষ করে সব পেশাজীবীর কাছে এটি পাঠানো হবে। বিএনবিসি প্রকাশের পর রেগুলেটরি অথরিটি গঠন করা হবে। সব অথরাইজড অফিসারের তালিকা রেগুলেটরি অথরিটির কাছে সংরক্ষিত থাকবে এবং অফিসারদের কার্যক্রম অথরিটি মনিটর করবে।
দেশ রূপান্তর : ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০১৬-২০৩৫ প্রণয়নে কী কী বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। অভিযোগ ছিল পূর্বে প্রণীত ড্যাপ অনেকটাই বাস্তবতার সঙ্গে মিল ছিল না। মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক গণশুনানি করে তা অধিকতর জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছিল তা আমালে নিয়েছেন কি?
শ ম রেজাউল করিম : ড্যাপকে হালনাগাদকরণের লক্ষ্যে বর্তমানে রাজউকে ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (২০১৬-২০৩৫) চ‚ড়ান্তকরণের কাজ চলমান আছে। নতুন ড্যাপে ঢাকা মহানগরীর উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার জন্য জনঘনত্ব জোনিং, জোনভিত্তিক/বøকভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, স্কুল জোনিং, মেট্রোরেল স্টেশনগুলো, পরিকল্পিত শিল্প এলাকা নির্ধারণ, জলাশয়, কৃষি ভ‚মি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের জন্য উন্নয়ন স্বত্ব প্রতিস্থাপন প্রভৃতি কৌশলসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উন্মুক্ত এলাকা সংরক্ষণের জন্য নতুন ড্যাপে ১০টি আঞ্চলিক পার্কের প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যানজট নিরসনের জন্য রিংরোডের প্রস্তাবনা, অযান্ত্রিক যানবহন চলাচলের জন্য নেটওয়ার্কের প্রস্তাবনা, এমআরটি লাইনের জন্য ডিপোর অবস্থান প্রস্তাবনা, মাল্টি-মোডাল স্টেশন প্রস্তাবনা প্রভৃতি নতুন ড্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ড্যাপ (২০১৬-২০৩৫) প্রণয়নে জনসাধারণের সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য বিভিন্ন এলাকায় অংশগ্রহণমূলক মতবিনিময় সভা বা সেশনের আয়োজন করা হয়েছে। তা ছাড়া ড্যাপের খসড়া পরিকল্পনা প্রস্তাবকৃত হলে ২ মাসব্যাপী গণশুনানির আয়োজন করা হবে এবং প্রাপ্ত মতামতসমূহ সন্নিবেশিত করে নতুন ড্যাপ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
দেশ রূপান্তর : আগের ড্যাপের বিষয়ে সংশোধন চেয়ে যারা আবেদন করেছে সেগুলো কি বিবেচনা করছেন?
শ ম রেজাউল করিম : পূর্বের ড্যাপে নির্দেশিত ভ‚মি ব্যবহারের বিষয়ে জনসাধারণ হতে প্রাপ্ত প্রায় তিন হাজার আবেদন যাচাইবাছাই করে যৌক্তিক আবেদনগুলো অনুযায়ী নতুন ড্যাপ সংশোধন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিদ্যমান স্থাপনা, জমির প্রকৃতি, জলাধার ও রাস্তাঘাটের অবস্থান প্রভৃতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন ড্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে।
দেশ রূপান্তর : নকশা অনুমোদনে ভোগান্তি কমিয়ে ১৬ সংস্থার স্থলে ৪ সংস্থার অনুমোদন আপনার একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ সংস্থাগুলোতে সেবা সহজীকরণে আপনার কী কী পরিকল্পনা রয়েছে?
শ ম রেজাউল করিম : ইতোমধ্যে রাজউক, চউক ও জাগৃকসহ মন্ত্রণালয়াধীন সব উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের সেবা সহজীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবন নির্মাণ অনুমোদনের সময় ১৬৫ দিনের স্থলে ৫৩ দিনে নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজউক ও চউকের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে পূর্বে ১৬টি সংস্থার কাছে যেতে হতো। অপ্রয়োজনীয় প্রতীয়মান হওয়ায় ১২টি সংস্থা রহিত করে দেওয়া হয়েছে। ভ‚মির ছাড়পত্র ও নামপত্তনের সময়সীমা ৭ দিন করা হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে এটা একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এর পাশাপাশি রাজউক-চউকের সব সেবা সম্পূর্ণ অটোমেশন পদ্ধতিতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরে বাসা বরাদ্দের আবেদন অনলাইনে গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্র্তৃপক্ষের সেবা সহজীকরণ ও সেবাগুলো অনলাইনে প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
দেশ রূপান্তর : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
শ ম রেজাউল করিম : দেশ রূপান্তরকেও ধন্যবাদ।