ঝালকাঠির রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঝালকাঠি-১ আসনের (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) সাংসদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। গত মার্চে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরেই মূলত এ দুই উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংসদ বজলুল হক হারুনের এ বিরোধ তৈরি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সাংসদ বজলুল হক হারুন দুই উপজেলার ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর পক্ষ অবলম্বন করেছেন। এর জেরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত সফরে এবং গত ৫ অক্টোবর তিন দিনের সরকারি সফরে সাংসদ এলাকায় এলেও তার সঙ্গে ওই দুই উপজেলা চেয়ারম্যানসহ দলের একাংশের নেতাকর্মীরা সাক্ষাৎ বা তার কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। এতে এ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে।
দলের নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনির ও কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এমাদুল হক মনিরকে মনোনয়ন দেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু সাংসদ বজলুল হক হারুন দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে রাজাপুরে বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মিলন মাহমুদ বাচ্চু এবং কাঁঠালিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কিবরিয়া সিকদারের পক্ষ নেন। এমনকি তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বলেন। সাংসদের এমন কর্মকাণ্ডে দুই উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। নির্বাচনে উভয় উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের পরাজিত করে দলীয় প্রার্থীরা জয়ী হলে সাংসদের সঙ্গে দলের একাংশের নেতাকর্মীদের দূরত্ব বাড়তে থাকে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাংসদ হারুনের সব অনুষ্ঠান বর্জন এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ না করার জন্য রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খায়রুল আলম সরফরাজ, রাজাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান জিয়া হায়দার খান লিটন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজু ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সঞ্জিব কুমার বিশ্বাসের সই করা একটি চিঠি স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে পাঠানো হয়। এ অবস্থায় সাংসদের সব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা।
ঝালকাঠি-১ নির্বাচনী এলাকার বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, এমপির সঙ্গে দলের একাংশ ও চেয়ারম্যানদের দ্বন্দ্ব অচিরেই সমাধান হওয়া দরকার। তা না হলে এলাকার উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সাংসদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একাংশের দূরত্বের বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলের একাংশের সঙ্গে সাংসদের দূরত্ব তো হয়েছেই। এ জন্য যারা দায়ী দূরত্ব ঘোচাতে তাদেরই আগে ভূমিকা নিতে হবে।
সাংসদ বজলুল হক হারুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমার পছন্দের প্রার্থীরা মনোনয়ন পাননি। তাই বলে আমি বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষ অবলম্বন করেছি, এমন কথা আমার নির্বাচনী এলাকার কোনো নেতাকর্মী বলতে পারবেন না।