বিজয়া দশমী আজ

আজ শুভ বিজয়া দশমী। শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতার। এদিন সকাল ১০টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।

এদিকে সব পূজামণ্ডপের বাতাসে বিষাদের সুর। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে দিনটি মন খারাপের। ঢাক-কাঁসরের বাদ্য-বাজনা, রাত উজ্জ্বল করা আরতি ও পূজা-অর্চনায় এ কটি দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ছিল কেবলই মা দুর্গার বিদায়ের আয়োজন। ঘোটকে করে মা দুর্গা এসেছেন আবার যাবেনও ঘোটকে।

গতকাল ঢাকের বাদ্য, পুজোর আমেজ, উমা বন্দনায় মাতোয়ারা ছিল গোটা দেশ। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সারা দিন ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন মন্দিরে পূজা দেন। শেষ দিনে না দেখা পুজোগুলো দেখতে মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। গতকাল মহা নবমীতে বিহিত পূজা শেষে সকালে অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ করা হয় মন্দিরে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে। এরপর ভক্তরা প্রতিমা দর্শন করেন। দুপুরে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সনাতন ধর্মাবলম্বী অজিত কুমার মহলদার বলেন, ‘বেলা পৌনে ১১টার দিকে মহা নবমীতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুর্গা মায়ের রাঙা চরণে অঞ্জলি নিবেদন করেছি। এরপর বিভিন্ন পুজোম-পে গিয়ে পুজো দিই।’

বিভিন্ন ম-প ঘুরে দেখা গেছে, সকাল ১০টার মধ্যেই নবমী পূজা শেষ হয়েছে। পূজা শেষে অঞ্জলি দিচ্ছেন ভক্তরা। গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শ্রী সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, ‘নবমী পূজার অঞ্জলি হয় বেলা সাড়ে ১১টায়। পূজা শেষে প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের ১২ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে এবারের আয়োজনে একটু ভিন্নতা আছে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত থাকবে দশমী তিথি। দেবী দুর্গার বিসর্জন এ সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।’

রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন ঢাকার প্রধান স্বামী পূর্ণাত্মানন্দজী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকালে নবমী পূজা শেষ হয়েছে। পূজা শেষে প্রসাদ বিতরণ হয়। এরপর ভক্তরা পুজো দিয়েছেন।’

নবমী পূজার বিশেষ একটি মাহাত্ম্য আছে। নবমীর পুণ্য তিথিতে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে পৃথিবীতে শুভ শক্তির প্রকাশ ঘটান দেবী দুর্গা। নবমী তিথি শুরু হয় সন্ধিপূজা দিয়ে। অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট আর নবমীর প্রথম ২৪ মিনিট সন্ধিপূজা হয়। মূলত দেবী চামুণ্ডার পূজা করা হয় এ সময়। এই ৪৮ মিনিটেই দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। আর রাবণকে বধ করেছিলেন রামচন্দ্র।

আশ্বিনের শারদপ্রাতে শুরু হয়েছিল দেবী পক্ষ। মহালয়া থেকে দেবীপক্ষের সূচনা। দুর্গাপূজার আনন্দ মূলত তখন থেকেই শুরু। শাস্ত্র অনুযায়ী, মহা নবমী তিথি অন্যান্য তিথির তুলনায় ‘শুভ’। তাই এই তিথিতে দেবীর আরাধনা করলে পুণ্য লাভ হয়।