ঝুঁকি নিয়ে চলছে লাইটারেজ জাহাজ

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নৌপথে দেশের ২৯টি গন্তব্যে লাইটারেজ জাহাজ পণ্য পরিবহন করে। দিনে ৬০ থেকে ৭০টি জাহাজ চলাচল করছে মাত্র ৪৩ জন মাস্টার পাইলট দিয়ে। ফলে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অদক্ষ মাস্টার দিয়ে জাহাজ চালাতে গিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বলছে, সংকট নিরসনে জনবল কাঠামো সংশোধন ও ১৫০ জন মাস্টার পাইলট নিয়োগের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে নৌপথে বিভিন্ন গন্তব্যে রয়েছে ডুবোচর। নতুন নতুন ডুবোচর তৈরিও হচ্ছে। পলি জমে যাওয়া, ড্রেজিং না হওয়ায় জাহাজ চলাচলের চ্যানেলও পরিবর্তন করতে হয়। কোন সময় কোন এলাকায় পানির গভীরতা কেমন হবে, তা মাস্টার পাইলটের নখদর্পণে থাকে। আর এসব কাজ সঠিকভাবে করতে পারেন মাস্টার পাইলটরা। এজন্যই একজন করে মাস্টার পাইলট সরবরাহ করার কথা বিআইডব্লিউটিএ’র।

লাইটারেজ জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের (ডব্লিউটিসি) অধীনে পণ্য পরিবহনে প্রায় এক হাজার লাইটারেজ জাহাজ রয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন শিল্প গ্রুপের নিজস্ব লাইটারেজ জাহাজও রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) থেকে পণ্য নিয়ে দিনে ৬০ থেকে ৭০টি লাইটারেজ জাহাজগুলো বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। লাইটারেজ জাহাজ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি হাজি শফিক আহমেদ দেশ রূপান্তরকে জানান, নৌপথে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকে মাস্টার পাইলটদের। গতিপথ কী হবে, তারা সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। জাহাজে একজন মাস্টার পাইলট থাকলে আমরা চিন্তামুক্ত থাকতে পারি। কিন্তু বাস্তবতা হলো বিআইডব্লিউটিএ চাহিদামতো মাস্টার পাইলট দিতে পারে না।

ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের (ডব্লিউটিসি) নির্বাহী পরিচালক মাহবুব রশিদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রাকৃতিক কারণে নৌপথে চ্যানেল পরিবর্তন করতে হয়। পানির গভীরতা কম থাকায় অনেক জায়গায় জোয়ার ছাড়া জাহাজ চালানো সম্ভব হয় না। নৌপথ সম্পর্কে ধারণা না থাকলে জাহাজ আটকা পড়ে। এজন্য অদক্ষ মাস্টার দিয়ে জাহাজ পরিচালনা সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ। এসব দুর্ঘটনা এড়াতে মাস্টার পাইলটের বিকল্প নেই।’

এ বিষয়ে বিআইডব্লিটিএ’র চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সেলিম দেশ রূপান্তরকে জানান, জনবলকাঠামো অনুযায়ী আমাদের একজন মাস্টার পাইলট সুপারভাইজার, ৩২ জন সিনিয়র মাস্টার পাইলট ও ৫ জন মাস্টার পাইলট থাকার কথা। দীর্ঘদিন স্থায়ী মাস্টার পাইলট নিয়োগ না হওয়ায় সংকট রয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ৪৩ জন পাইলট রয়েছেন, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছে জনবল কাঠামো সংশোধন ও ১৫০ জন মাস্টার পাইলট নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ নিয়োগ হলে সংকট কেটে যাবে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, দূরত্ব অনুসারে নৌপথগুলো বিভিন্ন অংশে (বিট) ভাগ করা থাকে। মাস্টার পাইলটের ভাড়া হিসাবে প্রতি ট্রিপে এক বিটের জন্য ৫০০ টাকা করে বিআইডব্লিউটিএকে পরিশোধ করতে হয় জাহাজ মালিকদের। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চলেই পাইলটেজ ফি হিসাবে ৯ কোটি ৭৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করেছে বিআইডব্লিউটিএ।