বরিশালের হিজলা উপজেলায় আজম বেপারী (২৫) নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের পর মল-মূত্র খাওয়ানো হয়েছে। আজম বেপারীকে মল-মূত্র খাওয়ানোর দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বরিশালের হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের তালতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার আজম বেপারী (২৫) হরিনাথপুর বাজার সংলগ্ন এলাকার মহিউদ্দিন বেপারীর ছেলে।
এক সপ্তাহ আগে ঘটনা ঘটলেও সোমবার মল-মূত্র খাওয়ানোর ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ঘটনার পর লোকলজ্জায় আজম বেপারী এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
মঙ্গলবার ঘটনার সঙ্গে জড়িত হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদার, রশিদ মাতুব্বর এবং মো. কবিরকে আটক করে পুলিশ।
ভিডিও ফুটেজ দেখে স্থানীয়রা জানান, হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদারের নেতৃত্বে টুমচর এলাকার রশিদ মাতুব্বর, মো. সোলায়মানসহ আট ব্যক্তি নির্যাতনে অংশ নেন। আর মল-মূত্র খাওয়ানোর ওই দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও করে মাহবুব সিকদারের চাচাতো ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদল।
স্থানীয়রা জানান, এ ছাড়া পুরো ঘটনার নেপথ্যে থেকে ইন্ধন জুগিয়েছেন নির্যাতনের শিকার আজম বেপারীর ব্যবসায়িক অংশীদার মো. জহির। জহির ও আজম বেপারী দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে ব্যবসা করে আসছিলেন। প্রথমদিকে তারা জ্বালানি তেল কিনে বিক্রি করতেন হরিনাথপুর লঞ্চঘাটে। এরপর তারা জমির ব্যবসা শুরু করেন। জমি ব্যবসায় তাদের প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভ হয়। তবে আজম ব্যবসায়িক সমান অংশীদার হলেও জহির ওই টাকা একাই আত্মসাৎ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আজম ব্যবসার লাভের অংশ চাইলে জহির তাকে টাকা দেবে না বলে হুমকি দেন। কিছুদিন আগে আজমকে মারধর করে এলাকা ছাড়া করেন জহির।
তারা আরো জানান, সম্প্রতি আজম এলাকায় ফিরে পুনরায় ব্যবসার লাভের টাকা দাবি করেন জহিরের কাছে। জহির এতে ক্ষিপ্ত হন। জহিরকে মারধর ও অপমান করতে হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদার ও ইয়নিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদলকে ভাড়া করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পরিকল্পনা মতো এক সপ্তাহ আগে আজমকে বাড়ি থেকে ডেকে তালতলা জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায় নিয়ে যান মাহবুব সিকদার। সেখানে আগে থেকেই মাহবুব সিকদারের সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে আজমের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন শুরু করেন তারা। এরপর আজমের হাত-পা চেপে ধরে মাহবুব সিকদারের সহযোগীরা। এ সময় মাহবুব সিকদার একটি বদনা ভর্তি মল-মূত্র আজমের মুখে ঢেলে খাইয়ে দেন। পরে আজমকে সেখানে ফেলে রেখে তারা চলে যান।
সোমবার মল-মূত্র ঢালার ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেন নির্যাতনকারীরা। ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়।
আজম বেপারীর স্বজনরা জানান, অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তারা ক্ষমতাসীন দল করেন। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। পুলিশের সঙ্গে তাদের ওঠা-বসা রয়েছে। এ কারণে আজম থানায় অভিযোগ দিতে সাহস পায়নি। এ ছাড়া ঘটনার পর তারা আজমকে আইনের আশ্রয় না নিতে হুমকি দেন তারা। এ কারণে আজমকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তারা বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে এলাকায় রটাচ্ছে আজম ঝাড়ফুঁক করে মাহবুব সিকদারের স্ত্রী ও তার মেয়ের ক্ষতি করেছে। সে কারণে তার বিচার করে এলাকাবাসী।
তিনজনকে আটকের পর থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদল পলাতক। তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসীম কুমার সিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি আমরা গত সোমবার রাতে জেনেছি। এটা দুঃখজনক ঘটনা। ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।