ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পেঁয়াজ-মরিচের আড়তদার ব্যবসায়ী হযরত আলীর কাছে নেওয়া ধার করা টাকা নিয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শান্ত পণ্ডিতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে ব্যবসায়ী সাদির মিয়াকে (৩৫) কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে শান্ত পণ্ডিত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সাদির মিয়াকে ধাওয়া করে মধ্যবাজার পূজা মন্দিরের সামনে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে আহত করা হয়। এতে মন্দির প্রাঙ্গণ রক্তাক্ত হয়ে পড়ে। হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে মধ্যবাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতেই এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। শনিবার (১৮ জুলাই) কোনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, টাকা-পয়সার লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আহত সাদির মিয়ার বড় ভাই ও মধ্যবাজারের কাঁচামালের আড়তদার আব্দুল কাদির জানান, ঘোষপাড়া মহল্লার গৌরাঙ্গ পণ্ডিতের ছেলে শান্ত পণ্ডিত তার ছোট ভাই হযরত আলীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ১৫ হাজার টাকা নিয়ে গত বুধবার উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই বিরোধের জের ধরে শুক্রবার রাতে হযরত আলীকে না পেয়ে দোকানে থাকা সাদির মিয়ার ওপর হামলা চালানো হয়। শান্ত পণ্ডিতের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দা, কিরিচসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে মধ্যবাজার পূজা মন্দিরের সামনে তাকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
পরে স্থানীয়রা সাদির মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, গত বুধবার শান্ত পণ্ডিত ও হযরত আলীর মধ্যে টাকা-পাওনা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও সমাধান হয়নি। তাদের ধারণা, ওই ঘটনার জের ধরেই শুক্রবার রাতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।