দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় যাতায়াতে পদ্মা পারাপারের অন্যতম মাধ্যম ফেরি ঘাটগুলোয় কয়েকদিন ধরে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। তীব্র স্রোতে দৌলতদিয়া প্রান্তে দুটি ঘাট নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া, আরেকটি ঘাট বিলীনের পথে। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
মানিকগঞ্জ : পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৭টি ফেরি থাকলেও স্রোতের বিপরীতে চলতে না পারায় গতকাল মঙ্গলবারও ৬টি ফেরি দিয়ে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করে। স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সময় লাগায় কমে গেছে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা। যে কারণে দুই পাড়েই দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি। দীর্ঘ সময় ঘাটে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।
বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাটের ভারপ্রাপ্ত সহ-মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেন, দুটি ঘাট ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আরেকটি ঘাট বিলীনের পথে। নদীতে প্রচ- স্রোতের কারণে ফেরিগুলো চলতে পারছে না।
মুন্সীগঞ্জ : লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে বন্ধ থাকার ১২ ঘণ্টা পর গতকাল মঙ্গলবার সকালে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। সকাল ৮টার দিকে সীমিত আকারে ৩টি ফেরি চলাচল শুরু করে। এর আগে সোমবার রাত ৮টা থেকে পদ্মায় তীব্র স্রোত ও নাব্য সংকটের কবলে নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত শিমুলিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় ছিল পাঁচ শতাধিক যানবাহন।
বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়াঘাটের ম্যানেজার (বাণিজ্য) আব্দুল আলিম জানান, নাব্য সংকট ও প্রবল স্রোতের কারণে সোমবার রাতে ফেরি চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেয় কর্র্তৃপক্ষ।
রাজবাড়ী : দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যান পারাপার চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চারদিন ধরে বন্ধ রয়েছে লঞ্চ চলাচল। ইতিমধ্যে দুটি ফেরিঘাট ভাঙনের কবলে পড়েছে। এতে নৌযান পারাপার ব্যাহত হওয়ায় ঘাটে আটকা পড়ছে শত শত গাড়ি।
বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে, সোমবার রাতে নতুন করে ৩ নম্বর ঘাটের পাশে প্রায় ১০ মিটার বিলীন হয়ে গেছে।
মাদারীপুর : প্রবল স্রোতের কারণে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সোমবার রাত ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সকল ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে কর্র্তৃপক্ষ। সকাল সাড়ে ৯টার পর ছোট তিনটি ফেরি চলছে কোনোমতে। এদিকে বেশিরভাগ ফেরি বন্ধ থাকায় পারাপারের অপেক্ষায় ঘাটের উভয় পাড়ে আটকে আছে তিন শতাধিক ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য পরিবহন।