অবৈধ ক্যাসিনো চক্রের হোতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ও জিকে শামীম গ্রেপ্তার হলেও তাদের সহযোগীরা এখনো এলাকায় সক্রিয়। ফুটপাতসহ বিভিন্ন স্থান থেকে তারা চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকা দাবড়ে বেড়ালেও তাদের ধরার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে না আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা বলছে, প্রতিদিনই ঢাকার অপরাধ জগতের অন্যতম নিয়ন্ত্রক ইসমাইল হোসেন চৌধুরীর দরবারে জমা হতো বিপুল টাকা। বিভিন্ন পর্যায়ের হোতা, কর্তাদের মধ্যে ভাগের পরে কোটি কোটি টাকা থাকত নিজের কাছে। সম্রাটের সেই টাকা কোথায়, সন্ধান করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সম্রাটের ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করছেন গোয়েন্দারা। সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়াতে টাকা পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন সম্রাট। সিঙ্গাপুরেই বেশি আসা-যাওয়া ছিল সম্রাটের। গোয়েন্দাদের ধারণা এই দুটি দেশে টাকা থাকতে পারে তার।
সম্রাটকে অসুস্থ অবস্থায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজধানীতে ক্যাসিনো চলতে দেওয়া হবে না। এসব জুয়ার বোর্ড, ক্যাসিনো পরিচালনার ক্ষেত্রে যত প্রভাবশালীরাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর। সম্রাট বা খালেদের বা জিকে শামীমের সহযোগীদের ধরার চেষ্টা চলছে। ক্যাসিনোর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের তালিকা করা হচ্ছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যাম শাখার প্রধান ও র্যাব-১ এর পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ও জিকে শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে তথ্যগুলো প্রকাশ করা যাচ্ছে না। সম্রাটকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাদের সহযোগীদের ধরতে র্যাব অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ক্যাসিনো থেকে যারা নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন তাদের তালিকা আছে আমাদের কাছে। তারা যেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারেন সেজন্য দেশের সবকটি বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। যেসব নেপালি বাংলাদেশে ক্যাসিনো কারবার চালিয়েছিলেন তাদের ব্যাপারে আমরা খোঁজখবর নিয়েছি। ইতিমধ্যে নেপালের হাইকমিশনকে তাদের ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে।