খুন সন্ত্রাস দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় সব হলকেই টর্চার সেলে পরিণত করেছে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন। বিভিন্ন মহল থেকে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উঠলেও বাস্তবতা হচ্ছে দেশে বর্তমানে কোনো ছাত্ররাজনীতি নেই। যা চলছে তা হলো সন্ত্রাসী রাজনীতি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে উদীচীর প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে এসব কথা বলেছেন বক্তারা। এ সময় অবিলম্বে দেশে সুস্থধারার প্রকৃত ছাত্ররাজনীতি চালুর দাবিও জানান তারা।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে খুন, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান। সমাবেশের শুরুতেই প্রতিবাদী গণসংগীত পরিবেশন করেন উদীচী সংগীত বিভাগের শিল্পীরা। তারা পরিবেশন করেন ‘গ্রাম থেকে জেগে ওঠো, শহর থেকে জেগে ওঠো’ এবং ‘হুঁশিয়ার ও কিষান, মজদুর ভাইসব হুঁশিয়ার’ গান দুটি। এরপর শুরু হয় বক্তৃতা পর্ব। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক এ এন রাশেদা, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়, কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘দুর্বৃত্তায়ন ও লুটপাটের অর্থনীতির ফসলই হচ্ছে দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসী, মাফিয়া বাহিনী। এসব কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমাজের সব স্তরে মাফিয়া, সন্ত্রাসী, ক্যাসিনো ব্যবসায়ী তৈরি হচ্ছে। রাজনীতির আমূল পরিবর্তনের জন্য বাম গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে।’ আগামী ১৭ অক্টোবর দেশের প্রতিটি জেলায় উদীচী ও সমমনা সংগঠনগুলো প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করার ঘোষণা দেয়।

সুজনের প্রতিবাদী মানববন্ধন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। গতকাল শুক্রবার বিকেলে শাহবাগে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন সুজনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা। সুজনের সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘অন্যায় দেখে চোখ বন্ধ না রেখে এখন প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময়।’ এ সময় সুজনের পক্ষ থেকে কয়েকটি লিখিত দাবি তুলে ধরা হয়। যেখানে বলা হয়, আবরার ফাহাদের হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে স্বল্পতম সময়ে বিচারের নিষ্পত্তি করতে হবে। এই ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দৃষ্টান্ত সৃষ্টির লক্ষ্যে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আবরার হত্যা মামলার সব খরচ বহনসহ যথাযথভাবে তার পরিবারের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।