সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি জমি দখল করে টায়ারের স্তূপ

সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি জায়গা দখল করে চোরাই ও পুরনো টায়ার কেনাবেচার মার্কেট করার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। চক্রটি বলছে, তারা দখল নয়; বিভিন্নজনের থেকে জায়গা ভাড়া নিয়ে এ মার্কেট করেছেন। তবে শিগগিরই অভিযান চালিয়ে মার্কেট উচ্ছেদ করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসের পর মাস টায়ার ফেলে রাখায় জন্ম নিচ্ছে ডেঙ্গু মশা। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। চক্রটি টায়ার ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা করছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তর পাশে নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকায় ‘বিবাড়িয়া টায়ার মার্কেট’ নামের এ মার্কেটটি। ব্যক্তি মালিকানা কিছু জায়গা ভাড়া নিলেও মার্কেটটি বেশিরভাগই নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সরকারি জায়গা দখল করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার কারখানা ও চোর সিন্ডিকেটের কাছ থেকে চোরাই টায়ার এনে এখানে বেচাকেনা হয়। মার্কেটের সামনে খালি জায়গায় হাজার হাজার পুরনো ও কাটাছেঁড়া টায়ার ফেলে রাখা হয়েছে। পরিত্যক্ত এসব টায়ারে জন্ম নিচ্ছে ডেঙ্গু মশা। মার্কেট পরিচালনার জন্য একটি কমিটিও রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পরিত্যক্ত টায়ারে পানি জমে রয়েছে। উড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা। পরিবেশ নোংরা। সরকারি একটি জলাশয় ভরাট করে মার্কেটটি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, মার্কেট কমিটির সভাপতি জালালের ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম ছিলেন মার্কেটের বড় ব্যবসায়ী। তিনি টায়ার ব্যবসার আড়ালে ইয়াবার ব্যবসা করতেন। মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-১১ শফিকুলকে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ আটক করে। তার ছোট ভাইকেও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এমনকি জালালের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে।

মার্কেটের পাশের বাসিন্দা আলামিন বলেন, ‘টায়ার পোড়া দুর্গন্ধে বসবাস করা মুশকিল। বাতাসে টায়ার পোড়া গন্ধ ভেসে আসে। তাছাড়া মশার উপদ্রুপে টেকাই যায় না। টায়ার পোড়া গন্ধে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।’ একই সমস্যার কথা বলেন নিউ মুক্তি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আবদুল মতিন। তিনি বলেন, ‘ঘনবসতি আবাসিক এলাকায় এ ধরনের মার্কেট কীভাবে হয় তা বোধগম্য নয়।’

টায়ার ব্যবসায়ী মাহবুব বলেন, ‘স্থানীয় কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের সঙ্গে কথা বলে মার্কেট করা হয়েছে। বহু বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি।’ তবে কাউন্সিলর শাহজালাল বলেন, ‘তাদের বহুবার বলা হয়েছে এখান থেকে মার্কেট সরিয়ে নিতে। তারপরও সরাচ্ছে না। আমি দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’ মার্কেট কমিটির সভাপতি জালাল বলেন, ‘স্থানীয় বিভিন্নজনের থেকে জায়গা ভাড়া নিয়ে মার্কেট করেছি। সামনের সরকারি জায়গার কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।’ তবে চোরাই টায়ার বেচাকেনা ও ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘শিগগিরই অভিযান চালিয়ে মার্কেট উচ্ছেদ করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হবে।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহতেশামুল হক বলেন, ‘এ মার্কেটের বিষয়ে আমি অবগত নই। মানুষের সমস্যা হয় এমন কোনো মার্কেট সিটি এলাকায় থাকবে না।’ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক বলেন, ‘চোরাই টায়ার ও ইয়াবা ব্যবসার বিষয়টি জানা নেই। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’