মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলোজিতে (বুয়েট) বিভিন্ন বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটি সমাবেশে বক্তৃতা করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছি, এখনো বুয়েটই বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমার স্ত্রী বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষায় উতরাতে পারেনি বলে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে ডাক্তার হয়েছে। বুয়েটে যে তার চান্স হয়নি আমাদের দাম্পত্য সম্পর্কের তিন দশক পরও সে দীর্ঘশ্বাস শুনতে হয়েছে। এখানে যারা ভর্তি হওয়ার এবং পাঠ করার সুযোগ পাচ্ছেন, তারা নিঃসন্দেহ প্রথম কাতারের মেধাবী এবং প্রথম কাতারের ভাগ্যবান। কী আশ্চর্য! তাদের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল কিংবা তাদের মধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে প্রায় এক কুড়ি দানব, যারা মনে করেছে মানবহত্যার জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ দরকার। তারা তাই করেছে। প্রাথমিক সাফল্য তো তাদের অর্জিত হয়েছেই– চ্যানেল আইয়ের নারী সঞ্চালক যথার্থই বলেছেন, তারা একজন দেশপ্রেমিককে অত্যন্ত নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে।স
ঘাতকরা কোন চেতনার অনুসারী, কোন রাজনৈতিক আদর্শের সমর্থ এটা আমি বিবেচনায় নিচ্ছি না; আমার স্কুলজীবনের ক্লাসমেট ডাক্তার শামসুল আলম মিলনও এমন ঘাতকের হাতে নিহত হয়ে দেশের শাসন কাঠামোর ভিত্তিমূল নাড়িয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু মিলন মৃত্যুর আগে বুয়েটের আবরার ফাহাদের মতো এমন পাশবিকভাবে নির্যাতিত হননি
আমি প্রকৌশলী নই, কিন্তু প্রকৌশলনির্ভর একাধিক কর্মক্ষেত্রে কাজ করার সময় বুয়েটের কজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ প্রকৌশলী এবং শ্রেষ্ঠ মানুষের সান্নিধ্যে আমি এসেছি এবং তাদের কারও কারও স্নেহভাজন হতে পেরেছি বলে যথেষ্ট শ্লাঘাও অনুভব করেছি। আমার কাছে বরাবরই বুয়েট ‘সিট অব এক্সিলেন্স’ কিন্তু এখন বলতে আতঙ্কগ্রস্তবোধ করছি। ১৯৭৬-৭৭-এ বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ৪১১ নম্বর কক্ষে (সম্ভবত এটিই এখন ৪০১১) প্রকৌশল ও স্থাপত্যবিদ্যা পাঠরত আমার কজন বন্ধুর সঙ্গে কিছু অপরাহ্ণ কেটেছে। ভাবতে চাচ্ছি না ঠিক এই রুমের বরাবর দোতলার রুমটিই ছিল ঘাতকদের টর্চার রুম এবং তার ঠিক নিচের রুমটিতেই থাকতেন তাদেরই শিকার আবরার ফাহাদ। আবরার হত্যাকাণ্ড মানুষের বি্বাসসের ভিত্তিমূলে প্রচণ্ড আঘাত করেছে। বুয়েটের স্বনামধন্য প্রাক্তন ছাত্ররা প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কী সৃষ্টি হচ্ছে মানব না দানব? আমরাও চুপচাপ তাকিয়ে দেখলাম দানবের সংঘ আছে, মানবের নেই। ঘাতকরা একত্র হতে সময় নেয়নি, কিন্তু মানবরা টুঁ-শব্দটি করতেও দ্বিধা করেছে, পাছে দানবের আঘাত তাদেরও নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। বিশ্বজিৎ হত্যার দৃশ্যটি যারা মনে রেখেছেন, কিংবা হালের রিফাত হত্যা তারা জানেন দানব প্রতিহত করতে কেউ এগোয় না, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা যাদের করার কথা তারাও আসেন ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে। শিক্ষাঙ্গনের দানব একা দানব হতে পারে না, তাকে লালন করার ও রক্ষা করার গডফাদার থাকে, তাদের হাত অনেক লম্বা।
* * *
সত্তরের দশকের শেষার্ধ্বে বুয়েট থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বের হয়ে আসা ভ্রাতৃসম সৈয়দ জিয়াউল হক, ডা. জয়নাল আবেদীনের লেখা একটি পোস্ট আমাকে অগ্নায়ন করেছেন; হয়তো আরও কারও কারও কাছে এটি পৌঁছেছে। বৃহত্তর পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আমি পুরো লেখাটিই উদ্ধৃত করছি :
‘যেকোনো এক চাঞ্চল্যকর হত্যার পরপরই টিভি সাংবাদিকরা ক্যামেরা হাতে ছুটে যান ভিকটিমের বাসা বা বাড়িতে। সেখানকার হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে হয় প্রতিবার। ট্রেন্ডটা বরং এখন বলদে যাক। এবার ক্যামেরার সামনে আনা হোক খুনিকে এবং তার বাবা-মাকে। যেসব নরপশু একেকটা তাজা প্রাণ নিতে পারে অবলীলায়, তাদের বাবা-মাকে দেখানো হোক টিভিতে। মাকে প্রশ্ন করা হোক তিনি যে বস্তুটিকে ২৮০ দিন পেটে রেখেছিলেন, সেটা একসময় খুনি হবে ভেবেছেন কখনো? সর্বশেষ বার যখন ছেলেকে খাবার খাইয়েছেন, তখন জানতেন তার ছেলের পক্ষে মানুষ খুন করা সম্ভব? খুনির মা হিসেবে অনুভূতিটা কেমন হচ্ছে? বাবাকে ধরে আনা হোক ক্যামেরার সামনে। সন্তানটি কীভাবে মানুষ থেকে খুনিতে পরিণত হলো তার জবাবদিহি চাওয়া হোক। প্রশ্ন করা হোক ছেলের কৃতিত্বে তিনি কতটা গর্বিত? প্রশ্ন করা হোক, ছেলের কী পরিমাণ শাস্তি তিনি চান? প্রশ্ন করা হোক তার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হলে তিনি মানতে পারবেন কি না? প্রশ্ন করা হোক, সন্তানকে মানুষ করার প্রক্রিয়ায় তিনি ঠিক কোন জায়গায় ব্যর্থ হয়েছিলেন? সর্বোপরি জানার চেষ্টার করা হোক তার সন্তানটি যখন জেল থেকে বের হয়ে আসবে, তখন তিনি হাসিমুখে বরণ করবেন কি না? এমন একটি জঘন্য কর্মের জন্য সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন কি না? এমন একটি জঘন্য কর্মের জন্য সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন কি না? জানি এমনটা করা হলে বেশির ভাগ জবাব হবে মিথ্যে। কারণ অমানুষ সন্তানের বীজ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অমানুষ বাবা-মায়ের মধ্যেই লুকায়িত থাকে। তবুও চেহারাগুলো দেখানো হোক। ভিকটিমের বাবা-মাকে দেখিয়ে শোক বর্ষণ করানোর পাশাপাশি আমাদের খানিকটা ঘৃণা বর্ষণের সুযোগ দেওয়া হোক।
ডা. মিজানুর রহমান, এই ঘৃণা বর্ষণে আমরাও শরিক হতে চাই। সুপ্রজনন বিদ্যা বা জেনেটিকসের ব্যাখ্যা কী ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে ‘অমানুষ সন্তানের বীজ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অমানুষ বাবা-মায়ের মধ্যেই লুকায়িত থাকে’ এই মন্তব্যটি একটু ঢালাও হয়ে যাচ্ছে কুড়ি-একুশ বছরের বেপথু সন্তানের সামনে মা-বাবার অসহায়ত্বের অনেক দৃশ্য আমি দেখেছি। এটা সত্যি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার উইলিয়াম কেলি (বাবা), কেইট (মা), বিলি (ছেলে), কিট (মেয়ে) সবাই খুনি; আবার অ্যারিজোনা জেফ উইলিয়ামস তার ছেলে খুনি অ্যান্ডির কারণে লজ্জায় অবিরাম ক্ষমাপ্রার্থনা করে চলেছেন। খুনি সন্তানের বাবার গ্লানিতে আত্মহত্যার ঘটনাও রয়েছে। যে প্রস্তাবটি এসেছে আমি বিশ্বাস করি, আতঙ্কের এই সমাজের সংস্কারে কিছুটা ভূমিকা রাখবেই। টিভি সাংবাদিকরা যদি ক্যামেরার ফোকাস ঘাতকদের পরিবারের ওপর ফেলেন, অন্তত সম্ভাব্য ঘাতকদের বাবা-মা সতর্ক হবেন।
* * *
যে দলই সরকার গঠন করুক, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের সময় কষ্টিপাথরে যাচাই করা হয় মানুষটি দলদাসদের একজন কি না। অথবা দলদাসরা তীব্র প্রতিযোগিতায় নামেন সে প্রতিযোগিতা আনুগত্যের, পদলেহনের, প্রতিযোগিতায় দলবাজ ছাত্রদের সমর্থনও বড় শক্তি।
‘হাই রেঞ্জ ইউনিভার্সিটি’র (নামটা টি ভি ভার্কের দেওয়া) ভাইস চ্যান্সেলর শেষ পর্যন্ত যিনি হলেন, তার ছাত্রই তো শিক্ষামন্ত্রী; কিন্তু তিনি যখনই তাকে ‘স্যার’ বলেন তার ভাষায়, ‘আমি ততবারই কুঁচকে উঠছি। শব্দটি কাবাবের মাংসে শিক ঢোকানোর মতো আমার হৃৎপিণ্ডে বিঁধেছে। হাই রেঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর যেহেতু দলে ভর করে এসেছেন, দলের পিয়ন, দলের সুইপার, দলের ছাত্র, দলের শিক্ষক সবার কিল-গুঁতো খেয়ে মুখে মিষ্টি হাসি রেখেই তাকে সেবা দিয়ে যেতে হবে। ভারতীয় প্রেক্ষাপটে টি ভি ভার্কে ‘কুলাঙ্গার’ আর ‘ভাইস চ্যান্সেলর’ প্রায় সমার্থক করে ফেলেছেন। চড়থাপ্পড় খাবার পরও তার তৃপ্তি, কারণ তিনি তো আফটার অল ‘ভাইস চ্যান্সেলর’ হয়েছেন।
কদিন আগেই লিখেছিলাম ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের ভাইস চ্যান্সেলর পল গ্রিনফিল্ড একটি কোর্সে প্রয়োজনীয় যোগ্যতার কিছু ঘাটতি থাকার পরও তার এক আত্মীয়কে ভর্তি করার নির্দেশ দেওয়ায় বিশ্বিদ্যালয় ফুঁসে উঠেছিল। ক্ষমা চেয়ে তো নিষ্কৃতির উপায় নেই তিনি বেআইনি হুকুম কেন দিলেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সবার সম্মিলিত ঘৃণা তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করল। তিনি বললেন, আমি ও আমার পরিবার এ চাপ আর সহ্য করতে পারছি না। এবার বুয়েটে যে ঘটনাটি ঘটল, তার আংশিকও যদি সেখানে ঘটত, হয়তো পল গ্রিনফিল্ড আত্মহত্যাই করতেন। পুরো বিষয়টিই আত্মমর্যাদার সঙ্গে জড়িত।
বুয়েটের বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলরও আমার পরিচিতজন। আমি তাকে পুরোদস্তুর পেশাজীবী শিক্ষক বলেই জেনেছি। তিনি শিক্ষকতা নিয়ে থাকলেই পারতেন। বুয়েটে ভাইস চ্যান্সেলরের পদকে ‘ডিসগ্রেসড’ করার জন্য তার ভাইস চ্যান্সেলর হওয়াটা কি অনিবার্য ছিল? আমি আবরার ফাহাদকে কখনো দেখিনি, এমনকি তিনি আমার অতি দূরসম্পর্কের কোনো আত্মীয়ও নন। আবরার হত্যার পরের দিন ও রাত আমি কেবল এটাই প্রত্যাশা করেছি ভিসি সাহেব আসবেন, ন্যায়-বিচারের আশ্বাস দেবেন, আবরারের জন্য শোক প্রকাশ করবেন। কিন্তু তিনি কেন এলেন না? খুনিদের কোনো নিষেধাজ্ঞার কারণে, নাকি নিজের ছাত্রদের মোকাবিলা করার নৈতিক সাহস তার ছিল না। একজন মন্ত্রীকে বলতে শোনা গেল, তিনি অসুস্থ! তিনি মৃত্যুশয্যায় থাকলে তো তার সহকর্মীদের উচিত ছিল স্ট্রেচারে ঠেলে তাকে আবরারের লাশের কাছে নিয়ে আসা। তারাও তা করেননি। বুয়েট প্রশাসনের নৈতিক মান কতটা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তা স্পষ্ট : যেখানে এমনকি প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন হত্যাকাণ্ড, তাদের পিঠ বাঁচাতে লিখতে হয়েছে ‘অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু’! গণ্ডারের পিঠ বাঁচানো! বিভিন্ন কারণে ‘ভাইস চ্যান্সেলর’ শব্দটি এখন রাষ্ট্রের জন্য বিব্রতকর শব্দে পরিণত হয়েছে। এখনো যারা রাষ্ট্রকে বিব্রত করে যাচ্ছেন, পদত্যাগ করে রাষ্ট্রকে স্বস্তি দিতে পারেন। যিনি এখনো বলেছেন, পদত্যাগ করার প্রশ্নই আসে না, তিনি নিজেকেসহ সবাইকে বিব্রত করছেন। বুয়েট মানব সৃষ্টির কারখানাই ছিল, দানব নয়।
একটি পাদটীকা : বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হতে যাচ্ছে। ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হোক এ দাবি কখনো আমার নয়। আমি চাই বুয়েটসহ সব বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ হোক। নতুবা ভিক্টর ফ্রাংকেনস্টাইনের পরিণতি ভোগ করার জন্য দলবাজ শিক্ষকদের প্রস্তুতি নিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন। কোনো আমলের মহামান্য রাষ্ট্রপতি যেন আবার তা মওকুফ না করে দেন। অবশ্য সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির তো প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার বাইরে যাওয়ারও কোনো উপায়ই নেই।
একটি জিজ্ঞাসা : ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয়, আবরার যদি আপনার ছেলে হতো আপনি কি ছেলের লাশ উপেক্ষা করে বিদেশে থাকা উপমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলতে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতেন? এ প্রশ্নটি আপনার স্ত্রীর জন্যও তিনি কি আপনাকে বাইরে যেতে দিতেন, না ছেলের লাশের কাছে পাঠাতেন?
একটি অভিজ্ঞতা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ভাইস চ্যান্সেলর হওয়ার জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি তখন রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হিসেবে বঙ্গভবনে কাজ করছি। বাজতে থাকা ফোনটি ধরতেই সেই ভাইস চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী স্যার স্যার করতে মুখে প্রায় ফেনা তুলছেন এবং সরকারের কথামতো সব কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কার সঙ্গে বলছেন, স্যার? তিনি বললেন, আপনার সঙ্গে স্যার। তারপর একটু দম নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এটা হারিস চৌধুরী স্যারের নম্বর না? আমি বললাম, না আমার নাম মোমেন। হারিস চৌধুরীর হলেই কি আপনি এমন স্যার স্যার করবেন? তিনি আমতা-আমতা করে বললেন, না মানে, না মানে...।
* * *
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর তখনকার দুর্নীতি দমন কমিশনের সদস্য করা হলে আমি আকুল হয়ে তাকে বললাম, আপনি অনুগ্রহ করে জয়েন করবেন না। তিনি আমতা-আমতা করে বললেন, সরকার তবুও তো এটা দিয়েছে। আর একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে যখন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য করা হয়, তিনি সরাসরি আমার পরিচিত না হওয়ায় অন্য বন্ধু শিক্ষকদের বললাম, তাকে বলুন, এটি সাবেক ভিসির উপযুক্ত পদ নয়। তিনি যোগ দিলেন। ভিসিরা নিজেরাই যদি আত্মসম্মান নিয়ে না দাঁড়াতে পারেন, তারা ছাত্রছাত্রীদের মর্যাদা কেমন করে রক্ষা করবেন?
লেখক
সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও কলামনিস্ট