ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সড়কের অন্যতম ব্যস্ত অংশ ফতুল্লার পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত। সড়কের এই অংশের পাশে বিসিক শিল্প নগরীসহ অনেক শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। এই অংশের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই তীব্র যানজট তৈরি হয়। যানজটের ভোগান্তি কমাতে নির্মাণ করা হবে ফ্লাইওভার। প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ হবে ফ্লাইওভারটি।
ফতুল্লার পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত আট কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কে নারায়ণগঞ্জের চরসৈয়দপুরে নির্মাণাধীন শীতলক্ষা সেতু পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেন ফ্লাইওভার এবং চরসৈয়দপুর থেকে মু্ক্তারপুর সেতু পর্যন্ত বর্তমান সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হবে। এ-সংক্রান্ত প্রকল্পের নকশা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি মাসেই সংশ্লিষ্টরা সরেজমিন পরিদর্শন করে নকশা চূড়ান্ত করবেন।
প্রাথমিকভাবে পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। একনেকের সভায় অনুমোদনের পর দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শুরু হবে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০০৬ সালে নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ খেয়াঘাটে একটি সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। একনেকে অনুমোদন ছাড়াই শুধু নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য তিনি এটি করেছিলেন। ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী জনসভায় এসে বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জে একাধিক ব্রিজ হবে। উন্নয়ন নিয়ে, নারায়ণগঞ্জ নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকবে না। তিনি তার কথা রেখেছেন। শীতলক্ষা সেতুর কাজ এখন দৃশ্যমান। মোক্তারপুর থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণের বিষয়টি একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায়।
সেতু বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌস দেশ রূপান্তরকে জানান, নকশা নিয়ে দুই জেলার সাংসদ ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সভা হয়েছে। প্রকল্প সম্পর্কে তাদের ধারণা দেওয়া হয়েছে। তবে উপস্থাপিত নকশায় চরসৈয়দপুর এলাকায় যেখানে পঞ্চবটি থেকে ফ্লাইওভার এসে সড়কে নামবে, সেখানে সামান্য জটিলতা দেখা দিয়েছে। তাই চলতি মাসে সেখানে সেতুমন্ত্রী, সেতু সচিব এবং দুই জেলার সাংসদ মৃণাল কান্তি দাস ও শামীম ওসমান সরেজমিন পরিদর্শন করে সিদ্ধান্ত নেবেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।