মরুভূমির তলায় শহর

অস্ট্রেলিয়ার মধ্যাঞ্চলের কোবার পেডি অঞ্চল মূলত ওপাল (বহুমূল্য পাথর) খনির জন্য বিখ্যাত। এই শহরের ৬০ শতাংশ বাসিন্দাই তপ্ত মরুভূমির তলায় বাস করেন। আর মাটির তলার এই শহরকে বলা হচ্ছে আগামীর টেকসই আবাসন ব্যবস্থার পথিকৃৎ।

কোবার পেডির বাসিন্দারা অবশ্য ইচ্ছে করে মাটির তলায় বসতি গড়ে তোলেননি। মরুভূমির তপ্ত আবহাওয়া আর ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা তাদের বাধ্য করেছে মাটির তলায় ঘর বানাতে। গত বছরের গ্রীষ্মে ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা ছিল গড়ে ৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গরমের মাত্রা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায় উত্তর থেকে ধেয়ে আসা উত্তপ্ত বাতাসের কারণে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তপ্ত দিনগুলোতে মনে হবে পরমাণু যুদ্ধের পরবর্তী অবস্থা।

কিন্তু মাটির তলার অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সার্বক্ষণিক সেখানে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে। এই তাপমাত্রার মধ্যে কোবার পেডির বাসিন্দারা বেশ আরামেই বাস করছেন। অবশ্য এই বাসস্থান তৈরি সহজ হয়েছে সাবেক ওপাল খনির কারণে। মরুভূমির তলার এই শহরটি মূলত এক সময়কার বিশাল ওপাল খনি। পরিত্যক্ত খনিতেই নিজেদের সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয়রা তৈরি করেছেন     

ছোট একটি শহর। স্থানীয় বাসিন্দা জ্যাসন রাইটের মতে, ‘কোবার পেডিই বিশ্বে একমাত্র জায়গা যেখানে চাইলে বাসস্থানের জায়গা সহজেই বাড়ানো যায়। আর এজন্য অতিরিক্ত অর্থও ব্যয় করতে হয় না। কারণ, আমরা জায়গা বাড়ানোর জন্য যতই খুঁড়ি, ততই ওপাল পাই। দেয়াল খুঁড়ে পাওয়া ওপাল বিক্রি করে অর্থ আসে আমাদের।’

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ওপালের মজুদ রয়েছে ওই কোবার পেডিতেই। ওই অঞ্চলে কয়েক হাজার খনি শ্রমিকের বসবাস ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেখানে আছেন প্রায় শতাধিক খনি শ্রমিক। ২০১৭ সালে কোবার পেডি একটি হাইব্রিড টেকসই প্রকল্প সামনে নিয়ে আসে। গত বছর ওই প্রকল্পের অধীনে শহরটির ৭০ শতংশ এলাকা নবায়নযোগ্য জ্বালানির আওতায় আসে। নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও উইন্ডমিলের কারণে বিদ্যুতের জন্য সরকারের ওপর ভরসা করতে হয় না শহরবাসীকে। বলা হচ্ছে, গোটা অস্ট্রেলিয়া যদি কখনো বৈদ্যুতিক সংকটে পড়ে কোবার পেডিতে কোনো সংকট থাকবে না। সূত্র : বিবিসি