বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই’র সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলি। সংবাদমাধ্যমে জোর গুঞ্জন, ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করে বোর্ড প্রেসিডেন্ট হয়েছেন তিনি। টিম ইন্ডিয়ার সাবেক এই অধিনায়ক নাকি বিজেপিতেও যোগ দিতে পারেন। কিন্তু এসব গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন সৌরভ।
খুব কথা হচ্ছে, আপনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে। জোর জল্পনা, অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বিজেপিতে যোগদান নিয়ে কথা হয়ে গিয়েছে। সত্যি কি? আনন্দ বাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন এক প্রশ্নে সৌরভ বলেন, “মোটেও এ ধরনের কোনো কথা হয়নি। অমিত শাহজির সঙ্গে আমি দেখা করেছি ঠিকই। কিন্তু বৈঠকে উনি এক বারের জন্যও এই প্রসঙ্গ তোলেননি। একদমই তোলেননি।
ভিজিয়ানাগ্রামের মহারাজের পর ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে একই সঙ্গে দেশের অধিনায়ক ও ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হওয়ার নজির গড়তে যাচ্ছেন সৌরভ। কেমন লাগছে? সৌরভের জবাব- “ভীষণই খুশির মুহূর্ত। আমি বেশি খুশি কারণ বোর্ডের এত কঠিন একটা সময়ে সদস্যরা আমার ওপর বিশ্বাস রাখলেন। তাদের এই আস্থাটা দেখেই সব চেয়ে ভালো লাগছে।”
অধিনায়ক হিসেবে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবান বোর্ড সভাপতি। কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন কী? এ প্রসঙ্গে ভারতের সাবেক এই তারকা ব্যাটসম্যান বলেন, “দুটো কাজ আলাদা। খেলার সময়টা ছিল বেশিটা মাঠের মধ্যে পারফর্ম করা। বোর্ড প্রেসিডেন্টের কাজটা বেশিটা নেপথ্যে থাকা ঘরগুলোতে হয়। খোলা মাঠে সেটা ঘটে না। মাঠে নেমে অত লোকের সামনে নিজেকে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জটা অন্য রকম ছিল। এটাও নতুন এক অধ্যায়। দুটো আলাদা সময়ও। তখন আমি আরও তরুণ ছিলাম। এখন অভিজ্ঞ হয়েছি (হাসি)।”
দশ মাসের জন্য বোর্ড প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। বোর্ডের প্রধান হিসেবে নানা লক্ষ্যের কথা জানালেন ৪৭ বছর বয়সী সৌরভ, “অনেক কাজই রয়েছে। আইসিসি-তে ভারতীয় বোর্ডের স্থান ঠিক করা। ঘরোয়া ক্রিকেটকে সাজানো। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের দেখভাল করা। বোর্ডে সিস্টেম ফেরানো। ভারতীয় ক্রিকেটকে ঠিকমতো এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে নেপথ্যে যে জায়গাগুলো রয়েছে, সেগুলোকে সক্রিয় রাখতে হবে। সেই ইঞ্জিনগুলোকে সচল করে তোলা হবে প্রথম কাজ। গত তিন-চার বছর ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে তো ইমার্জেন্সি চলেছে। আমার প্রথম লক্ষ্য হবে স্বাভাবিক বোর্ড পরিচালনার রুটিন ফিরিয়ে আনা।”