বাবার কোলেই শিশু তুহিনকে হত্যা: পুলিশ

গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে শিশু তুহিন মিয়াকে তার বাবার কোলেই স্বজনরা মিলে হত্যা করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টায় সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

পুলিশ নিহত তুহিন মিয়ার আত্মীয়-স্বজনদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য পায় বলে জানান তিনি।

মিজানুর রহমান বলেন, সোমবার রাতে বাবা আবদুল বাসিরের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল শিশু তুহিন। মধ্যরাতে তাকে কোলে করে ঘরের বাইরে নিয়ে যান তিনি। এসময় কোলে ঘুমিয়েই ছিল তুহিন।

তার দাবি, পরে কোলের মধ্যেই তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে বাবা, চাচা ও এক চাচাতো ভাই। জবাই করার পর একে একে তার লিঙ্গ, দুই কান কাটা হয়। পরে তার পেটে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় দুটি ছুরি। হত্যা শেষে বাড়ির পার্শ্ববর্তী মসজিদের পাশে কদম গাছে তারা লাশ দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, মূলত গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই শিশু তুহিনকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত শিশুর বাবার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ অনেক মামলা ছিল। এলাকায় পক্ষ- বিপক্ষ ছিল। তাদের ফাঁসাতেই এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে।

তিনি আরও জানান, নিহতের মায়ের দায়ের করা মামলায় আপাতত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন- নিহত তুহিনের বাবা আবদুল বাসির, চাচা জমশেদ আলী, মোছাব্বির আলী, নাছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়র হোসেন।

এদের মধ্যে আবদুল বাসির, চাচা জমশেদ আলী ও মোছাব্বির আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সুনামগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খালিদ মিয়ার আদালতে চাচা নাসির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।