দাউদকান্দিতে সরকারি ভবনের পাশেই ফেনসিডিলের খালি বোতলের ছড়াছড়ি

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চত্বরের ভেতরে ফেনসিডিলের খালি বোতলের ছড়াছড়ি! কড়া নিরাপত্তা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা এড়িয়ে ফেনসিডিলের বোতলগুলো কীভাবে এখানে এল, কারা এখানে রাখল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে?

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ ভবনের পশ্চিম পাশে আনসার ভিডিপি ও পল্লী উন্নয়ন ভবনের ফাঁকা অংশে দেয়ালের পাশে ভারতীয় নিষিদ্ধ ফেনসিডিলের ১০-১৫টি খালি বোতল পরে রয়েছে। 

উপজেলায়  আসা সেবাপ্রার্থী ও সচেতনদের প্রশ্ন, এগুলো আসলে কারা সেবন করে, কোথা থেকে আসে? উপজেলা চত্বরের যদি এ অবস্থা হয় তবে বাইরের পরিবেশ কেমন?   

সচেতন মহল বলছে- কোনোভাবেই এ অভিযোগের দায় এড়াতে পারেন না উপজেলার কর্মকর্তারা। গত মাসের উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় স্থানীয় সংসদ  ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে প্রশাসনিক ভবনের বাউন্ডারির ভেতরে ফেনসিডিলের বোতল ছড়িয়ে পড়ে থাকে কীভাবে?  

পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত বলেন, আমরা পরিবেশ নিয়ে আন্দোলন করে আসছি। সামাজিক আন্দোলন করি সমাজকে সুন্দর ও মাদকমুক্ত রাখার জন্য। শুধু উপজেলা চত্বরই না সব জায়গা মাদকমুক্ত রাখতে হবে। দাউদকান্দিকে মাদকমুক্ত উপজেলা হিসেবে আমরা দেখতে চাই।

তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের মতো একটি সুরক্ষিত স্থানে কীভাবে ফেনসিডিলের বোতল পড়ে থাকে? কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার শামিল এটি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা উচিত এবং তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মুসলিমা আক্তার বলেন, আমি একমাস হলো এখানে যোগদান করেছি। যদিও আমি এলাকা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নই। তবে বিষয়টি আমি উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করবো।

উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেড (বিআরডিবি) এর চেয়ারম্যান গোলাম মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিষয়টি গতকাল আমার নজরে আসছে। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, আমাদের অফিস টাইম শেষ হওয়ার পরে পিছনের উপজেলা পরিষদ মার্কেটের ছাদে মাদকের আড্ডা বসে। বিষয়টি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করেছি। 

উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান বলেন, কয়েকদিন পর পরই এখানে চুরির ঘটনা ঘটে। আমার অফিসের টেলিফোনের তার, ওয়াই-ফাই তার এবং উপজেলা পরিষদের পানির মোটর চুরির ঘটনা ঘটেছে। ধারনা করা হচ্ছে এগুলো মাদকসেবিদের কাজ।

এ ব্যাপারে দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারী জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। আর উপজেলায় নাইটগার্ডসহ লোকবল রয়েছে, উনারা কি করে? বিষয়টি খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার কাছে থেকে প্রথম জানলাম। বিষয়টি আমি দেখছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত