ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদে বাকি আর ১৫ দিন। বিচ্ছেদের আগে এখন দুপক্ষের মধ্যে কোনো কার্যকরী চুক্তি হয়নি। ব্রেক্সিটের সব পক্ষকে সন্তুষ্ট রেখে একটি চুক্তিতে পৌঁছতে ব্যাপক চেষ্টা করে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও তার দল কনজারভেটিভ পার্টির একাংশ। ইইউর সঙ্গে সত্যিই কোনো চুক্তি হবে কি না তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় যুক্তরাজ্যের জনগণ কি ব্রেক্সিটের জন্য প্রস্তুত তাই এখন প্রশ্নের দাবিদার।
২০১৬ সালের জুন মাসের গণভোটে যুক্তরাজ্যের ৫২ শতাংশ জনগণ বিচ্ছেদের পক্ষে ও ৪৮ শতাংশ ইইউর সঙ্গে থাকার পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু ওই গণভোটের পর থেকে একের পর এক পরিবর্তিত বাস্তবতায় যুক্তরাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ এখন কী চায় তা বলা মুশকিল।
ব্রেক্সিট সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তই এখন পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জরিপকারী সংস্থা কান্তার যুক্তরাজ্যের ভোটারদের কাছে ব্রেক্সিট নিয়ে সম্ভাব্য চারটি পছন্দের তালিকা চেয়েছিল। ওই জরিপে দেখা যায়, অধিকাংশ ভোটারই ইউরোপীয় ইউনিয়নে থেকে যাওয়ার পক্ষে। এরপরই পছন্দের তালিকায় আছে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের বিষয়টি। প্রায় একই চিত্র পাওয়া যায় বিএমজির করা জরিপে। বিএমজি অবশ্য ভোটারদের সামনে পাঁচটি বিকল্প রেখেছিল। এছাড়া অপিনিয়াম, প্যানেলবেইস ও কমরেসের করা অন্য তিন জরিপে ভোটারদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তারা প্রধানমন্ত্রী জনসনের প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে কী ভাবছে। অপিনিয়ামের জরিপে দেখা যায়, ২৭ শতাংশ মানুষ মনে করে জনসনের প্রস্তাবটি ভালো। আর ২২ শতাংশ একে বাজে প্রস্তাব মনে করে।
ভোটারদের ওপর চালানো সব জরিপেই চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের বিষয়টি ছিল। জরিপকারী প্রতিষ্ঠান কান্তারের মতে, অন্তত অর্ধেক ভোটার চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে মত দিয়েছে। প্রতি দশজনে মাত্র তিনজন চুক্তির পক্ষে মত প্রকাশ করেছে। আবার বিএমজির করা জরিপে দেখা যায়, প্রতি দশজনে সাতজন মত দিয়েছে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে। গত মাসের এক জরিপে ফের গণভোটের দরকার রয়েছে কি না এমন এক প্রশ্ন হাজির করা হয় ভোটারদের সামনে। ওই প্রশ্নের উত্তরে দেখা যায়, ৮৮ শতাংশ মানুষ ফের গণভোট চায় ব্রেক্সিট প্রশ্নে তাদের চূড়ান্ত মতামত প্রকাশে। ২০১৬ সালে যারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছিল, তাদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ এখনো তাদের মত পরিবর্তন করেনি। গত দুই বছরে এদের সংখ্যা খুব কমই কমেছে।
তবে প্রায় অধিকাংশ জরিপই বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থেকে যাওয়ার পক্ষে মানুষের মতামতই বেশি। ৫৩ শতাংশ থাকার পক্ষে আর ৪৭ শতাংশ বিচ্ছেদের পক্ষে রয়েছে বর্তমানে, এমনটাই মনে করছেন ব্রেক্সিটবিষয়ক বিশ্লেষকরা। কিন্তু সত্যিকার অর্থে, কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না ব্রেক্সিট প্রশ্নে আগামী ১৫ দিনে কী ঘটতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যে। নতুন করে গণভোটের সম্ভাবনা রয়েছে কি না তাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন গতকাল বুধবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পক্ষে। যদিও আইরিশ প্রধানমন্ত্রী একই দিনে জানিয়েছেন, ব্রেক্সিট ইস্যুতে এখনো অনেক বিষয় আছে অমীমাংসিত।