ভুয়া চাকরির নিয়োগপত্র তৈরি করে এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে। দিনের পর দিন নিজের আত্মীয়-স্বজনকে চাকরি দেওয়ার নাম করে এই টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বম্মোত্তর সুন্দরদীঘি সরকারপাড়া গ্রামের হরিশ চন্দ্র রায়ের ছেলে বিপুল কুমার রায়ের (৪৩) বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক অভিযোগকারী জানান, বিপুল কুমার রায় নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় ফার্মেরহাট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হিন্দু ধর্ম বিষয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি কৌশলে চাকরি দেওয়ার নাম করে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেন।
২ লাখ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন বিশ্বনাথ রায় (৬০)। তিনি বলেন, ‘বিপুল কুমার আমার স্ত্রীর বোনের ছেলে। আমার ছোট ছেলেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে বলেন, “আপনার ছেলেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরে চাকরি নিয়ে দেব”। একপর্যায়ে আমরা তার কথামতো ছেলের চাকরির জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিই। টাকা নেওয়ার আগে বিপুল আমাকে বলেন, চাকরি না হলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু আমার ছেলের চাকরি তো দিতেই পারেনি এখন টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।’
সুন্দরদীঘি ইউনিয়নের মদন চন্দ্র রায়ের ছেলেকে বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকরি দেওয়ার নাম করে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বিপুল। অভিযোগকারী মদন চন্দ্র বলেন, ‘বিপুলের নাকি বাংলাদেশের সব মন্ত্রণালয়েই চাকরি দেওয়ার লোক আছে। এজন্য তিনি আমার ছেলেকে রেলওয়েতে চাকরি দেওয়ার নাম করে ৫ লাখ টাকা অগ্রিম নেন।’
একই এলাকার অখিল বন্ধু নামে এক তরুণকে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) চাকরি দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নেন ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। জায়গা-জমি বিক্রি করে সরকারি চাকরির আশায় টাকা দিয়েছিলেন অখিল। কিন্তু চাকরিও হয়নি, টাকাও ফেরত পাননি।
জানা গেছে, বিপুল কুমার চাকরির ভুয়া সার্কুলার দেখিয়ে এবং ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে চাকরি হয়েছে মর্মে প্রার্থীর বাড়িতে ই-মেইলে পাঠাতেন। এ ফাঁদে ফেঁসেছেন একই প্রতিষ্ঠানের বিপুলের সহকর্মী কৃষ্ণকুমার রায়ও। তিনি তার ছেলের রেলওয়েতে চাকরির জন্য ১২ লাখ টাকা দিয়েছেন। এছাড়াও সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নাম করে কৈলাশ চন্দ্র রায়ের কাছে টাকা নিয়েছেন ৬ লাখ। কৃষ্ণকুমার রায় বলেন, ‘বিপুল কুমার যাদের কাছে টাকা নিয়েছেন সবাই হিন্দু এবং নিকটাত্মীয়। তিনি কোনো মুসলমানের কাছে চাকরির নাম করে টাকা নেননি।’
দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আমার কাছে বিপুলের বিরুদ্ধে মৌখিক এবং লিখিত একাধিক অভিযোগ আসছে। বিপুলকে এ বিষয়ে বারবার নোটিস করেছি কিন্তু সে আসে না।’
টাকা আত্মসাতের বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা হয় বিপুল কুমারের বিরুদ্ধে। মামলা তদন্তকারী দেবীগঞ্জ থানার এসআই মহিউদ্দিন সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘টাকা নেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে।’
এ বিষয়ে বিপুল কুমার রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার নামে মানুষ এগুলো মিথ্যা রটাচ্ছে।’