আবরার হত্যা: অমিত ও তানভীরের ফের রিমান্ড

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বি (২২) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অমিত সাহা ও তাবাখখারুল ইসলাম তানভীরকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত তাদের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

একই মামলায় গ্রেপ্তার হোসেন মোহাম্মদ তোহাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।  

তারা জানান, বৃহস্পতিবার বুয়েটের ছাত্র ও বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের উপ আইনবিষয়ক সম্পাদক অমিত সাহা ও ছাত্রলীগের সদস্য তানভীরকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। মহানগর হাকিম আবু সাঈদ শুনানি শেষে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, অমিত সাহার পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষ  হওয়ায় বিকেলে আদালতে হাজির করে আবার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। এ ছাড়া তানভীরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়। পরে আদালত  তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, অমিত ও তানভীর হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে সাক্ষ প্রমাণে পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও তাদের নাম এসেছে। তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা প্রয়োজন।

এর আগে ১১ অক্টোবর অমিতকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) তদন্ত কর্মকর্তা।

অন্যদিকে গত ৮ অক্টোবর তানভীরকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১৩ অক্টোবর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। ১৫ অক্টোবর আবার তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে আদালত বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করেন।

৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারনামীয় ১৯ আসামির মধ্যে ১৬ জন এবং আরও পাঁচজন মোট ২০ জনকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিন আসামি এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। তারা হলো, মো. জিসান, মো. মোর্শেদ ও মো, তানিম। তাদের ধরতে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে ডিবি সূত্র জানিয়েছে।