অবশেষে ৩৫ দিনের মাথায় মেহেরপুরে জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্যসহ সব আসামিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। মূলত ছেলে হত্যার প্রতিশোধ, শোলমারী বিলের অংশীদারত্ব থেকে বাদ পড়াসহ স্থানীয় নেতৃত্বের কোন্দলকে কেন্দ্র করেই মেহেরপুর সদর উপজেলার নতুন দরবেশপুর গ্রামের দুই বিল মালিককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। বৃহস্পতিবার মেহেরপুর পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সদর উপজেলার নতুন দরবেশপুর গ্রামে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে শোলমারী বিলের দুই মালিক দুই ভাই রোকনুজ্জামান ও হাসানুজ্জামান হত্যাকাণ্ড ঘটনার রহস্য তুলে ধরতে গিয়ে মেহেরপুর পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ হোসেন সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান।
হত্যার রহস্য তুলে ধরে পুলিশ সুপার জানান, বিস্ফোরক, অপহরণ, হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি একই গ্রামের হামিদুল ইসলাম ওরফে হামিদ ডাকাত তার ছেলে সম্রাট হত্যার প্রতিশোধ নিতেই মেহেরপুর জেলখানায় বসে এই নির্মম খুনের পরিকল্পনা করেন। আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় তার ভাই আবদুল হাকিমকে। হাকিম সেই নির্র্দেশনা অনুযায়ী ভাগ্নে ইসমাইল হোসেন ওরফে বাক্কাকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে চুয়াডাঙ্গা হাড়িয়াদাহ থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটায়। মামলার বাদী রোকনুজ্জামানের স্ত্রী আলেয়া খাতুন ও মা আঞ্জুমান আরার উপস্থিতিতে পুলিশ সুপার জানান, মামলায় ১২ থেকে ১৩ জন সরাসরি জড়িত। এ ছাড়া ৩-৪ জন রয়েছে যারা পরোক্ষভাবে জড়িত। ইতিমধ্যে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, সদর থানার ওসি শাহ দারা খান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।