মাটির তলায় বিশাল ‘ব্যাটারি’

অস্ট্রেলিয়ার মানুষ ইউরোপের দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। দেশটিতে অবশ্য চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় বলেই ব্যবহারে কৃপণতা নেই। তবে কয়লা বা জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে পুরোপুরি নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাওয়া দেশটি সেøায়ি ২.০ নামের একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হাতে নিয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি ন্যাশনাল পার্কের বরফাচ্ছাদিত পার্বত্য এলাকায় হচ্ছে ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। ৭০০ মিটার উঁচু বরফঘেরা এক উপত্যাকা থেকে নিচের উপত্যাকার বরফ গলা পানির প্রবাহ থেকে উৎপন্ন হবে দেশটির মোট চাহিদার ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ।

এজন্য অবশ্য পর্বত শ্রেণির ভেতর দিয়ে ২৭ কিলোমিটার সুড়ঙ্গ খুঁড়তে হবে প্রকৌশলীদের। সেই সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে তীব্রগতির জলধারায় টারবাইন বসিয়ে উৎপাদিত হবে বিপুল বিদ্যুৎ। দেশটির বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘সেøায়ি ২.০’ প্রকল্পটি আসলে মাটির তলার বিশাল এক ব্যাটারির মতো নবায়নযোগ্য শক্তির সরবরাহ করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি ভাবা যত সহজ বাস্তবায়ন তত সহজ নয়। সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে যে কোম্পানিটি কাজ করছে তারা বলছে, এই প্রকল্পে প্রায় পাঁচশ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হবে। অথচ চলতি বছর শুরুর দিকে এই প্রকল্পের জন্য মাত্র ১৩৮ কোটি ডলার দিতে রাজি হয় ফেডারেল সরকার। তবে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন বাড়াতে বদ্ধপরিকর অস্ট্রেলিয়া প্রকল্পটি যে করেই হোক বাস্তবায়ন করবে বলে মনে করছেন অনেকে। 

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেলবোর্ন এনার্জি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মিশেল ব্রায়ার বলেন, এটি আসলে বড় ও শক্তিশালী ব্যাটারির মতোই বিষয়। এর থেকে দেশের চাহিদার ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। সরকারের তরফে আশা করা হচ্ছে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে গ্রাহকরা অনেক কম দামে বিদ্যুৎ পাবেন। শুধু তাই নয়, এর জন্য পরিবেশের তেমন ক্ষতি হবে না। তবে এই প্রকল্পটি ওই পার্কে পরিবেশের জন্য ভালো কিছু হবে না বলে মনে করছেন অনেকে। প্রকল্পটির জন্য যে টানেল বা সুড়ঙ্গ খুঁড়তে হবে তার মাটিতে ঢেকে যাবে প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা। আর প্রকল্পটির যে ব্যয় ধরা হয়েছে তা দিয়ে সোলার বা উইন্ডমিলের মতো অসংখ্য প্রকল্প করা যেত বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার স্বাধীন একটি জলবায়ু কাউন্সিলের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এন্ড্রু স্টোক।